Science and Happiness

বিজ্ঞানের সাথে আমাদের কি কোনো “সুখের” সম্পর্ক রয়েছে?

সামগ্রিকভাবে যদি আমরা চিন্তা করি, বিজ্ঞান আমাদের জন্য আশীর্বাদ নাকি অভিশাপ?

এই যুক্তি তর্ক প্রতিনিয়তই করা যায়।

কিন্তু মানুষই একমাত্র বিজ্ঞানকে অভিশপ্ত না বানিয়ে আশীর্বাদ হিসেবে গড়ে তুলতে পারে। বিজ্ঞান মানব জীবনকে অনেক সুখ ও স্বাচ্ছন্দ্য দিয়েছে।

এই যেমন ধরুন, বাসা-বাড়িতে প্রচণ্ড গরমে যখন ফ্যানের বাতাস গায়ে লাগে, তখন প্রশান্তি অনুভূত হয়। অথবা, এয়ার কন্ডিশনের রুমে যখন প্রচণ্ড গরমের দিনেও শীতল পরশ বয়ে যায়, এটা সুখ বলা যায়। প্রচণ্ড গরম থেকে বাঁচার জন্য প্রাগৈতিহাসিক যুগেও মানুষ অনেক সংগ্রাম করেছে।

এমনকি রাজা বাদশাহদের সিংহাসনের পিছনে দুজন প্রহরী বিশাল লম্বা একটি পাখা নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়, অর্থাৎ রাজাকে বাতাস করার প্রয়াস।সেই যুগ, সেই সময় পার হয়েছে। এখন এসেছে বিজ্ঞানের যুগ। বিজ্ঞান আমাদের জন্য আশীর্বাদ।

তাই সুখ দেয় বিজ্ঞান।বিজ্ঞানের আবিষ্কার যেমন মানব কল্যাণে ব্যবহার করা যায়, তেমনি মানবজাতির ধ্বংসের জন্যও বিজ্ঞান ব্যবহার করা যায়।

ইউরেনিয়াম আবিষ্কার করার ফলে ইউরেনিয়াম দিয়ে পারমাণবিক বোমা তৈরি হয়। আবার সেই ইউরেনিয়াম দিয়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পারমাণবিক চুল্লিতে বিদ্যুৎ আবিষ্কার হয়।পারমাণবিক বোমার আবিষ্কারক ওপেনহাইমার পারমাণবিক বোমা আবিষ্কার করে মানবজাতিকে ধ্বংসের পথে নিয়ে যাননি। বরং, তিনি মানবজাতির শক্তি বৃদ্ধি করেছেন।মানুষ বিজ্ঞানের প্রযুক্তি ও নিজের বুদ্ধিমত্তা কাজে লাগিয়ে নিজেকেই অনেক উচ্চতায় উন্নীত করেছে। এটা বিজ্ঞানের আশীর্বাদ।

বিজ্ঞানের এত সব আবিষ্কারের পরেও মানবজাতি কেন জানি সুখী হতে পারছে না। এর অন্যতম কারণ ভয়।

ভয় মানুষকে সর্বদা দুশ্চিন্তাগ্রস্ত রাখে, হতাশার মধ্যে ডুবিয়ে রাখতে পারে।

ভয় মানুষকে সর্বদা বিচলিত করে রাখে। সুখের জন্য ভয় দূর করা অতি আবশ্যক।

ভয় দূর করার একমাত্র পথ হলো ভয়কে আলিঙ্গন করা। সমস্ত ধরনের কুসংস্কার থেকে মুক্ত হয়ে স্বাধীন চিন্তা করতে হবে।বিজ্ঞানের জ্ঞান মানুষকে ভয় থেকে দূরে রাখতে পারে।

কুসংস্কার আমাদেরকে ভয়ে ডুবিয়ে রাখে।

কুসংস্কার তৈরি হয় কোনো অজানা জ্ঞান থেকে, বিশ্বাসের উপর ভিত্তি করে। কুসংস্কারমুক্ত মন সর্বদাই সাহসী হয়, ভয়মুক্ত হয়।

তাই প্রযুক্তি ও বিজ্ঞানের ধারা প্রবাহিত সকলেই ভয়মুক্ত হতে পারে। ভয় আসে মানুষের মন থেকে।

মনের সমস্ত ধরনের কুসংস্কার বিতাড়িত করে। প্রকৃত জ্ঞানে দীক্ষিত মানুষ যেকোনো ধরনের ভয় থেকে মুক্ত হতে পারে।

শিশুদেরকে শৈশব থেকেই এ ব্যাপারে সচেষ্ট হতে হবে, বৈজ্ঞানিক ভিত্তিতে শিক্ষা অনুশীলন করে।শুদ্ধের মুক্ত চিন্তাশীল করে গড়ে তুলতে হবে।

কোন ধরনের কুসংস্কারে তারা যেন শৃঙ্খলিত না হয়। কৃত্রিমতা এবং প্রাকৃতিক আনন্দ অনুধাবন করার জন্য জ্ঞান প্রদান করতে হবে। প্রযুক্তি আমাদেরকে কৃত্রিমতা দিয়েছে। কিন্তু প্রাকৃতিক আনন্দ থেকে নিজেদেরকে দূরে রাখা যাবে না।

খোলা মাঠ, উন্মুক্ত আকাশ, সবুজ ঘাস, প্রশান্ত নদী—বিস্তীর্ণ মাঠে অনাবিল আনন্দ পাওয়া যায়। মানুষ প্রকৃতির একটি উপাদান।

মানুষ আলাদা কোনো কিছু নয়। প্রকৃতির অন্যান্য সমস্ত প্রাণীকুলের মতোই মানুষও একটি প্রজাতি।

প্রকৃতিতেই মানুষের প্রকৃত গন্তব্য। প্রকৃতি থেকেই উদ্ভূত এবং প্রকৃতির সাথেই মানুষ মিশে যাবে একাকার হয়ে।

বিজ্ঞান আমাদেরকে আশীৰ্বাদ হয়ে এসেছে। কিন্তু প্রকৃতিকে ভুললে চলবে না।

Author: Raman Kumar Biswas

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *