করোনা ভাইরাস উপসর্গ (কভিড-১৯)

করোনা ভাইরাস আক্রান্ত হলে যে সব উপসর্গ দেখা যায়ঃ

১। জ্বর ২।কাশি ৩। শ্বাসকষ্ট

COVID-19 রোগে সাধারণ ফ্লু ভাইরাসের মত উপসর্গ দেখায়। যেমন জ্বর ও কাশি। কিছু বয়স্ক রোগী দের ও অন্যান্য শারীরিক সমস্যা রয়েছে এমন রোগীদের ক্ষেত্রে নিউমোনিয়া, বুকে চাপা শ্বাসকষ্ট, বুকে ব্যাথা, হতে পারে। এটা সাধারণত জর দিয়ে শুরু হয় তারপর শুকন কাশি থাকে। এক সপ্তাহ পরে, শ্বাসকষ্ট ও ২০% রোগীদের ক্ষেত্রে হাসপাতালে ভর্তি হবার মত শারীরিক অবনতি হতে পারে। (বিস্তারিত জানার জন্য নিকটস্থ ডঃ কে দেখানোর পরামর্শ)

COVID-19 রোগে কদাচিত সর্দি, হাঁচি, ও গলা ব্যাথার মত উপসর্গ থাকে। ৫% রিগির ক্ষেত্রে এমনটা হতে পারে। সর্দি, হাঁচি, ও গলা ব্যাথা সাধারণ সর্দি জ্বর এর উপসর্গ, এমনিতেই সেরে যায়।

করোনা ভাইরাসে ৮০% ক্ষেত্রে ই মৃদু উপসর্গ থাকেঃ

Chinese Journal of Epidemiology তে প্রকাশিত ৭২৩১৪ জন রোগীদের মধ্যে যাদের নিশ্চিত করোনা ভাইরাস আক্রান্ত হয়েছে, কিছু সন্দেহের তালিকায় আছে এমন রোগীদের মধ্য থেকে জানা গিয়েছে যে,

৮০.৯% রোগীর উপসর্গ সাধারণ ফ্লু রোগের মত এবং বাড়িতেই আরোগ্য লাভ করা সম্ভব।

১৩.৮% খুব গুরুতর এবং নিউমোনিয়া, বুকে চাপা শ্বাসকষ্ট আছে।

৪.৭ % খুব ই মারাত্মক এবং শ্বাস ক্রিয়া একেবারে বন্ধ হয়ে যাওয়া, বিভিন্ন অঙ্গ যেমন, হার্ট ফেইল করা, কিন্ডনি একেজো হওয়ার মত ঘটনা ঘটে।

২% রোগীর ক্ষেত্রে বলা হয়েছে যে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে COVID-19 রোগ মরণ মুখী ব্যাধি।

বৃদ্ধ রোগীদের ক্ষেত্রে মৃত্যুর ঝুঁকি বেশি।

খুম কম সংখ্যক বাচ্চা রোগী পাওয়া গিয়েছে।

আগে থেকে কোন রোগে ভুগছেন এমন ব্যাক্তির ক্ষেত্রে কোনরা ভাইরাস কতটা ঝুঁকি পূর্ণ?

যাদের হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, হাঁপানি, উচ্চরক্তচাপ আছে তাদের ক্ষেত্রে করোনা ভাইরাস এ আক্রান্ত হলে মৃত্যুর ঝুঁকি আছে। তবে এসব কোমরবিড অবস্থা ছাড়া ও মৃত্যুর ঝুঁকি থাকতে পারে। যদিও করোনা ভাইরাস নিয়ে আরও বিস্তর গবেষণার অবকাশ আছে।

করোনা ভাইরাস কভিড-১৯ রোগে যেভাবে উপসর্গগুলোর ক্রম অবনতি হয়ে মৃত্যু হয়- প্রকৃত রোগীদের থেকে উদাহরণঃ




৪০ বছরের যুবক; জাপানঃ

  • দিন ১; গা ব্যাথা, শরীর দুর্বল।
  • নিউমোনিয়া

৬০ বছরের বয়স্ক; জাপানঃ

  • দিন ১; হালকা জ্বর ও গলা ব্যাথা।

৪০ বছরের যুবক; জাপানঃ

  • দিন ১; শরীর দুর্বল, গা ঘামা, হালকা শীত অনুভূত হওয়া।
  • দিন ৪; গা ব্যাথা, জ্বর, কাশি।

৭০ বছরের বয়স্কা বৃদ্ধা; জাপানঃ

  • দিন ১; ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস জ্বর।
  • দিন ২-৩; বাস ভ্রমণ।
  • দিন ৪; হসপিটাল এ গিয়েছিলেন ডঃ দেখাতে
  • দিন ৫; নিইউমোনিয়া

৪০ বছরের যুবতী; জাপানঃ

  • দিন ১; হালকা জ্বর।
  • দিন ২; ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস জ্বর।
  • দিন ৬; বাসায় চিকিৎসা নিয়েছেন ও সুস্থ।

৬০ বছরের প্রবীণ; জাপানঃ

  • দিন ১; ঠাণ্ডা।
  • দিন ৬; ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস জ্বর।
  • দিন ৮; নিউমোনিয়া।

চীনের  অন্যও একটা রোগী যার টাইপ-২ ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ আছে।

  • জানুয়ারি ২২, ২০২০; জ্বর ও কাশি।
  • ফেব্রুয়ারি ৫, ২০২০; মৃত্যু।

ফিলিপিনে ৪০ বছরের এক চীনা যার আগে থেকেই কোনো স্বাস্থ্য ঝুঁকি ছিল বলে মনে হয়।

  • জানুয়ারি ২৫, ২০২০; জ্বর, কাশি ও গলা ব্যাথা।
  • ফেব্রুয়ারি ২, ২০২০;  গুরুতর নিউমোনিয়া ও মৃত্যু।

করোনা ভাইরাস কভিড-১৯ রোগে উপসর্গগুলো শরীরে কতো দিন থাকে?

WHO-China Joint Mission গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০ তারিখে ৫৫৯২৪ জন রোগীর মধ্য থেকে একটা রিপোর্ট করেছে সেখানে বলা হচ্ছে

মৃদু উপসর্গ গুলো সাধারণত ২ সপ্তাহ ধরে উপসর্গ গুলো থাকে।

গুরুতর অবস্থায় উপসর্গ গুলো সাধারণত ৩-৬ সপ্তাহ ধরে উপসর্গ গুলো থাকে

উপসর্গ গুলো শুরু হয়ে গুরুতর পর্যায়ে যেতে সময় লাগে ১ সপ্তাহ।

যারা মারা গিয়েছে তাদের মধ্য থেকে উপসর্গ গুলো শুরু হয়ে মৃত্যু পর্যন্ত সাধারণত ২-৮ সপ্তাহ সময় লাগে।

কি কি উপসর্গ থাকে?

  • জ্বরঃ ৮৩%
  • কাশিঃ ৮২%
  • শ্বাসকষ্টঃ ৩১%
  • মাংসপেশির ব্যাথাঃ ১১%
  • মাথা ব্য্যাথাঃ ৮%
  • গলা ব্যাথাঃ ৫%
  • সর্দিঃ ৪%
  • বুকে ব্যাথাঃ ২%
  • ডাইরিয়াঃ ২%
  • বমি বমি ভাব ১%
  • একের অধিক উপসর্গ ৯০%
  • জ্বর, কাশি, শ্বাসকষ্ট একসাথে ১৫%

করোনা ভাইরাসের সুপ্তাবস্থা