জীবন বীমা কি ও কেন এটা খুব প্রয়োজন?

মানুষ সঞ্চয় করে কেন?

নিশ্চয়ই অনাগত ভবিষ্যতের দুর্দিন থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য আজ আপনি সতেজ ও সুন্দর স্বাস্থ্য নিয়ে চাকরি করছেন, ক্ষেতে খামারে কাজ করছেন, কিংবা ব্যবসা করছেন কিন্তু আগামীকাল আপনার স্বাস্থ্য নাও থাকতে পারে কিংবা কোনো দুর্ঘটনায় পড়ে সম্পূর্ণ পঙ্গু হয়ে উপার্জন ক্ষমতা হারিয়ে ফেলতে পারেন সে মুহূর্তে জীবন বীমা সঞ্চয় আপনার উপকারে আসবে বন্ধুর মত কাজ করবে।

জীবন বীমা২

শুধু কি কাজ করার অক্ষমতা?

হঠাৎ যদি আপনার মৃত্যু ঘটে তখন আপনার ছেলে-মেয়েদের কি হবে ? প্রয়োজনে খোদা সঞ্চয় এর উপদেশ দিয়েছেন।

এ সঞ্চয় এর উৎকৃষ্ট মাধ্যম কি?

সঞ্চয় এর সবথেকে আধুনিক আকর্ষণীয় সহজ মাধ্যম হচ্ছে জীবন বীমা। ব্যাংকের মাধ্যমে সঞ্চয় করা যেতে পারে কিন্তু এ সঞ্চয় দীর্ঘস্থায়ী হয় না এবং বাড়তে পারে না কারণ ব্যাংকে সঞ্চয় করলে খেয়ালখুশিমতো কারণে অকারণে যখন তখন এর অর্থ তুলে নেয়া সম্ভব। যখন তখন তুলে নেয়া সম্ভব নয়। তাই স্বাভাবিকভাবেই সঞ্চয় ক্রমশ বাড়তে থাকে এবং একদিন এক মোটা অংকের কোথায় গিয়ে পৌঁছায়।

ব্যাংকের মাধ্যমে সঞ্চয় করলে যদি আপনার মৃত্যু হয় তাহলে আপনার স্ত্রী ও ছেলেমেয়েদের শুধু সে জমাকৃত টাকা এবং তার সঙ্গে কিছু সুদি পাবেন কিন্তু একটি বীমা পলিসির মাধ্যমে যদি কিস্তিতে কিস্তিতে প্রীমিয়ামের টাকা জমা কর্পোরেশনের জমা করেন তাহলে বীমা কর্তৃপক্ষ আপনার পরিবারকে শুধু জমাকৃত টাকা দেবেন না। আপনার যত টাকার বিমা পলিসি ছিল কত টাকা এবং তার সঙ্গে যদি মুনাফা যুক্ত পলিসি হয় তবে সে মুনাফাসহ সব টাকা প্রদান করবেন।

মনে করুন 20000 টাকার একটি জীবন বীমা পলিসি করে একটি মাত্র ষান্মাসিক কিস্তিতে 250 টাকা কিংবা একটিমাত্র বার্ষিকী 500 টাকা জমা দিয়ে হঠাৎ আপনার মৃত্যু হল তখন বীমা কর্পোরেশন আপনার পরিবারকে সম্পূর্ণ 20000 টাকায় প্রদান করবে।

ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার জন্য সঞ্চয় এরকম অপূর্ব ব্যবস্থা পৃথিবীতে একমাত্র বীমা প্রতিষ্ঠান দিতে পারে যে পরিকল্পনা গ্রহণ করলে আপনার প্রয়োজন মিটে সে পরিকল্পনাকে আপনি স্বাগত জানাবেন এটা অত্যন্ত স্বাভাবিক। জীবন বীমা সেরকমই একটি পরিকল্পনা। আপনার প্রয়োজন মেটানোর একটি সময়োপযোগী বাস্তবমুখী ব্যবস্থা বৃদ্ধ বয়সে যখন কাজ করার মত সামর্থ্য থাকবেনা তখন বাড়িতে বসে বসে আজীবন পেনশন অথবা অবসর ভাতা পেতে কী আপনি চান না?

সরকারি চাকরি না করলেও একটি বীমা পলিসির মাধ্যমে সে পেনশন কিংবা অবসরভাতা আপনি লাভ করতে পারেন। গ্রামবাংলার অনেক সাধারণ মানুষই এরকম পরিকল্পনার কথা জানেন না তাই লক্ষ্য করা গেছে আমাদের বিমানকর্মীরা এরকম পরিকল্পনার কথা আমাদের গ্রাম অঞ্চলের সাধারণ মানুষের মধ্যে যখনই তুলে ধরেছেন তখনই তাদের মাঝে জীবন বীমা পলিসি গ্রহণের আগ্রহ বাড়ে।

মেয়েকে বিয়ে দিতে হলে, উচ্চশিক্ষার জন্য ছেলেমেয়েকে কলেজ ইউনিভার্সিটি’তে পাঠাতে হলে, একখণ্ড জমি কিংবা হালের বলদ কিনতে হলে ঘর মেরামত বা তৈরি করতে গেলে অথবা কোনো আকস্মিক পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করতে হলে একসঙ্গে অনেক টাকার প্রয়োজন হয় বীমা আপনার সকল প্রয়োজনগুলো সহজেই টাকা দেওয়ার ব্যবস্থা করে দেয়।

জীবনধারণের নানাবিধ প্রয়োজন মেটাতে ও জীবনবীমা এগিয়ে আছে অসংখ্য প্রতিশ্রুতি দিয়ে পরিবারের উপার্জনশীল ব্যক্তির আকস্মিক মৃত্যুতে উদ্বৃত্ত অর্থ দুর্যোগের মুখোমুখি হয়ে কত সুখী পরিবার নিশ্চিহ্ন হয়ে যেত কত পরিবারের প্রতিভাবান ছেলে মেয়ের ভবিষ্যত অঙ্কুরে বিনষ্ট হয়ে যেত যদি না জীবন বীমা তার নিরাপত্তা নিশ্চিত গ্যারান্টি দিয়ে এগিয়ে আসতে তথ্য আজ অনেকেরই জানা আছে আপনি হয়তো এরকম ঘটনার কথা জেনে থাকবেন।

জীবন বীমা

আপনি কি জীবনবীমার এই সুদূর প্রসারী পরিকল্পনা এখনো গ্রহণ করেননি?

জীবন বীমার সুযোগ্য প্রতিনিধি আপনার প্রতিবেশী আপনার সেবায় সর্বক্ষণ নিযুক্ত তার পরামর্শ গ্রহন করুন ইসলাম মানবতার ধর্ম যে ব্যবস্থায় মানুষের মঙ্গল সাধন হয় ইসলাম সে ব্যবস্থারই বিধান দিয়েছে সে ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে তাই লক্ষ্য করা যায় ইসলামী সমাজ ব্যবস্থায় বায়তুল মালের বিধান আছে সমাজের ক্ষমতাবান প্রত্যেক ব্যক্তিকে বায়তুল মালে তাদের পায়ের কিছু অংশ দান করতে হয় যখন কোন ব্যক্তির আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ ও আর্থিক দুর্যোগের সম্মুখীন হয় তখন ওই বায়তুলমাল থেকে সে পরিবারকে সাহায্য করে থাকে।

জীবন বীমার ব্যবস্থা সে বায়তুলমাল ব্যবস্থারই সম্প্রসারিত সর্বাধুনিক রূপ। ইসলামের এ ব্যবস্থার সূত্র ধরে আধুনিক অর্থনীতিবিদরা জীবনবীমার প্রতিষ্ঠানসমূহ গড়ে তুলেছেন।

ইসলামের বিধান মতে তাই জীবন বীমা গ্রহণ সম্পূর্ণ জায়েজ এবং সংগতিপূর্ণ। তাই এদেশের বিখ্যাত আলেম-ওলামাগণ জীবনব্যবস্থাকে স্বীকার করে নিয়েছে তাকে গ্রহণ করতে মুসলিম সমাজকে পরামর্শ দিয়েছেন মরহুম মাওলানা সাব্বির আহমেদ ওসমানী, মরহুম মাওলানা কেফায়েত উল্লাহ প্রমুখ এর নাম নিশ্চয়ই শুনেছেন। এ উপমহাদেশের কোরআন ও ইসলামের উপর তাদের মত জ্ঞানী আলেম অত্যন্ত বিরল তাদের মতে জীবন বীমা গ্রহণ করার সম্পূর্ণ অনুমোদনযোগ্য জীবন বীমা আপনার নিজের এবং আপনার ছেলে-মেয়েদের ভবিষ্যৎ সুন্দর ও নিরাপদ ও শান্তিময় হয়ে উঠবে দেশ গঠনের কাজে শরিক হতে পারবেন কারণ জীবন বীমা কর্পোরেশন ব্যক্তিমালিকানায় স্থাপিত প্রতিষ্ঠান নয় রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান। এর মালিক রাষ্ট্রের আপামর জনসাধারণ এর মালিক আপনি আমি এবং সকলেই।

আপনার এবং আমার জীবন বীমা পলিসি প্রীমিয়ামের কিস্তির মাধ্যমে যে সঞ্চয় পুঞ্জিভূত হবে তার ফলে যে বিরাট মূলধন তৈরি হবে তা দেশের শিল্প ও কলকারখানায় স্থাপন সাহায্য করবে দেশ শিল্পে উন্নত হবে দেশের অর্থনৈতিক বুনিয়াদ সুদৃঢ় হবে দেশের মানুষের জীবনে আসবে সুখ-শান্তি ও সমৃদ্ধি একজন মুসলমানের জন্য দেশ গড়ার কাজ ধর্মীয় কাজ হুব্বুল ওয়াতান স্বদেশ প্রেম ঈমানের অঙ্গ এটা পবিত্র হাদীসের বাণী।

জীবন বীমার কর্মীগণ আপনাকে সেবাদান করতে প্রস্তুত তাদের সেবা গ্রহণ করে নিজের এবং পরিবারের ভবিষ্যৎ নিশ্চয়তা প্রদান করুন এবং সঙ্গে সঙ্গে দেশের অর্থনৈতিক বুনিয়াদ গঠন করতে সাহায্য করুন জীবন বীমা কর্পোরেশন থেকে একটি বৃহৎ রাষ্ট্রায়ত্ত অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে জীবন বীমা পলিসি গ্রহণ করবেন তার দায়দায়িত্ব মেটানোর সম্পূর্ণ মহারাষ্ট্রের কাজেই এ প্রতিষ্ঠানের ওপর আপনি আপনি আমি সম্পূর্ণ নির্ভর করতে পারি গত কয়েকবছর জীবন বীমা কর্পোরেশনের ব্যবসায় অগ্রগতি অত্যন্ত প্রশংসনীয়।

বীমা সম্পর্কিত আরও জানতে পড়ুন

উপরোক্ত প্রতিবেদনটি জীবন বীমা কর্পোরেশন এর নিজস্ব ওয়েব সাইট থেকে সংগৃহীত এবং বিশ্বস্ত।

Please follow and like us:

Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Next Post

ফেসবুক ব্যবহারে কাদের সবথেকে বেশি সচেতন হওয়া উচিত?

Wed Jan 6 , 2021
ফেসবুক আমরা অনেক কিছু লিখে থাকে নিজেদের বাইরে ঘুরতে যাওয়ার কথা কোন একটা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করা নতুন কোন ঘটনা কোনো শুভ সংবাদ এমনকি কারো মৃত্যুর সংবাদও আমরা ফেইসবুকে দুঃখের সাথে কখনো কখনো আমরা এমন কোন কথা এমন কোন ছবি প্রকাশ করে থাকে যেগুলো সম্পূর্ণই একটি ব্যক্তিগত ব্যাপার এবং সচারাচর যেগুলো […]
ফেসবুক

You May Like