COVID-19 রোগ নির্মূলে দায়িত্ব প্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা ও ডাক্তারদের ভূমিকা কি?

করোনা ভাইরাস হল একদল ভাইরাসের সমষ্টি যারা করোনা ভিরিদা গ্রুপের অন্তর্ভুক্ত। যারা প্রাণী ও মানুষ উভয়কেই সংক্রমিত করতে পারে। মানুষকে সংক্রমিত করে এমন করোনা ভাইরাস সাধারনত মৃদু সর্দি জ্বর থেকে শুরু করে জটিল নিউমোনিয়া পর্যন্ত হতে পারে, যেমন, মার্স, সারস। কিন্তু সম্প্রতি ডিসেম্বের ২০১৯, চীনের উহানে যে নতুন করোনা ভাইরাস পাওয়া গিয়েছে তার সম্বন্ধে আগে কিছুই জানা যায়নি, তাই এই ভাইরাস টি মানুষের জন্য বিপদজনক অবস্থায় আছে, যেহেতু এখন পর্যন্ত কোন ওষুধ আবিষ্কার হয়নি।

নতুন এই করোনা ভাইরাস টির নাম নভেল করোনা ভাইরাস আর এর থেকে মানুষের দেহে যে রোগ সৃষ্টি হয় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা অনুসারে তার নাম কভিড-১৯ ।

কি কি উপসর্গ থাকে কভিড-১৯?

১। জ্বর

২। কাশি

৩। শ্বাসকষ্ট

অবস্থা আরও জটিল হলে,

৪। নিউমোনিয়া

৫। Severe acute respiratory syndrome

6. মৃত্যু

কি কি প্রতিরোধক ব্যাবস্থা আছে?

১। সাবান-পানি দিয়ে হাত মুখ ধোয়া

২। এলকোহল মিশ্রিত দ্রবণ দিয়ে হাত ধোয়া

৩। সানিটাইজার দিয়ে হাত পরিষ্কার করা

৪। মাস্ক দিয়ে নাক, মুখ ঢেকে রাখা

৫। আক্রান্ত ব্যাক্তির থেকে দুরে থাকা

করোনা ভাইরাস নিয়ন্ত্রণে দায়িত্ব প্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা, কি কি অধিকার, দায়িত্ব ও কর্তব্য?

করোনা ভাইরাস নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্য কর্মীরা প্রথম সারিতে অবস্থান করেন, তাই তাদের নিরাপত্তা খুব গুরুত্বপূর্ণ। স্বাস্থ্য কর্মীরা যে সব ঝুঁকিতে থাকেন তার মধ্যে , জীবাণু থেকে সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকি, দীর্ঘ সময় ধরে হাসপাতালে কাজের চাপ, মানসিক চাপ, দুর্বলতা, মানসিকভাবে ভেঙে পড়া, শারীরিক ও মানসিক সংঘর্ষ, ইত্যাদি।

১।করোনা ভাইরাস ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও কর্মীদের দায়িত্ব হল প্রতিকার ও প্রতিরোধক বাবস্থার সার্বিক দায়িত্ব নেয়া।

২। সঠিক স্বাস্থ্যগত তথ্য ও ট্রেনিং প্রদান করা। যেমন, নবাগত কর্মীদের ট্রেইনিং, চিকিৎসা কাজে ব্যবহৃত সমস্ত যন্ত্রপাতির সঠিক ব্যাবহার, সংক্রমিত যন্ত্রপাতি, টিস্যু, ইত্যাদি ডিস্পজ করার নিয়মকানুন জানা।

৩। চিকিৎসা কাজে ব্যবহৃত পর্যাপ্ত পরিমাণ মাস্ক, গ্লভস, সানিটাইজার, সাবান, পানি, জীবাণু নাশক, টিস্যু, ইত্যাদির ব্যাবস্থা করা।

৪। গবেষণার জন্য আর্থিক ও প্রয়োজনীয় সমর্থন ও ব্যাবস্থা করা। নতুন যন্ত্রপাতি ক্রয় করা।

৪। ব্যাক্তিগত নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা করা।

৫। কর্মীদের কাজের সঠিক সময় ও বিশ্রামের বাবস্থা করা।

৬। জনগণকে সচেতন করা ও সঠিক নির্দেশনা সময়ে সময়ে জানান ও বাস্তবায়ন করা। জনগনের সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করা।

ডাক্তার, নার্স ও পেশাজীবী কর্মীদের দায়িত্ব ও কর্তব্য?

১। স্বাস্থ্য গত ঝুঁকি থেকে দুরে থাকা ও যথাযথ নির্দেশনা অনুসরণ করা।

২। সরকারি নির্দেশনা বা প্রোটকল মেনে চিকিৎসা করা।

৩। রোগীদের সাথে আন্তরিকতার সাথে সেবা প্রদান করা, বিচক্ষন হওয়া।

৪। রোগীর সমস্ত তথ্য প্রয়োজনে গোপন রাখা।

৫। সন্দেহপূর্ণ, ও নিশ্চিত রোগ গ্রস্থ রোগীদের সাথে দ্রুততার সাথে বাবস্থা গ্রহণ করা।

৬। সংক্রমণ প্রতিরোধ করার জন্য সঠিক তথ্য জনতার উদ্দেশে প্রদান করা।

৭। চিকিৎসা কাজে ব্যবহৃত সমস্ত যন্ত্রপাতি ব্যাবহার করার পর , সংক্রমিত যন্ত্রপাতি, টিস্যু, ইত্যাদি সঠিক ভাবে ডিস্পজ করা।

৮। নিজ উদ্যোগে রোগীদের উপসর্গগুলো মনিটরিং করা এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে রিপোর্ট পাঠান।

৯। স্বাস্থ্য ঝুঁকির চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে সঠিক পরামর্শ প্রদান করা (যদি প্রয়োজন হয়)।

Please follow and like us:

Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Next Post

কোভিড-১৯ রোগ নিয়ে যে সব কুসংস্কার প্রচলিত আছে

Fri Mar 20 , 2020
১। গোমূত্র পানঃ ভারতের একদল উগ্রবাদী হিন্দু নেতারা করোনা ভাইরাস নিয়ন্ত্রণে গোমূত্র পান করার কথা বলে মানুষ কে বিভ্রান্ত করছেন। তারা নিজেরা যেমন পান করছেন আর অন্যকেও উৎসাহিত করছেন। গো মূত্র পানে এর মধ্যে অনেকে অসুস্থ হয়েছেন। চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা এর কোণ বাস্তব ভিত্তি খুঁজে পাচ্ছেন না। সম্পূর্ণটাই ধর্মের নামে কুসংস্কার। ২। […]
কভিড-১৯