colorgeo.com

Disaster and Earth Science


সুনামি (জাপানি ভাষায়: 津波 [tsɯnami],আক্ষরিক অর্থে, ‘পোতাশ্রয় ঢেউ’ বা  Harbour Wave )    জাপানি ভাষায় সু (Tsu) কথাটির অর্থ বন্দর এবং নামি (Nami) শব্দের অর্থ ঢেউ অর্থাৎ সুনামি (Tsunami) কথাটির অর্থ বন্দর ধ্বংসকারী ঢেউ।ইংরেজি ভাষায় সুনামি শব্দটির হচ্ছে ,(Tsunami). । 
খুব সহজভাবে  বললে সুনামি হলো, সাগর বা নদী বা অন্য কোন জলক্ষেত্রে ভূমিকম্পের, ভূমিধ্বসের কিংবা আগ্নেয়গিরির উদগীরণের প্রভাবে সৃষ্ট জলোচ্ছ্বাস বা ঢেউ।
  তীরে আচরে পরা   ক্লান্তিহীন, বিরতিহীন ঢেউ দেখতে কে না মুগ্ধ হয়।কিন্তু সেই ঢেউয়ে যদি ধেয়ে আসে দানবের মত তখন বিষয়টা কেমন হবে?
প্রথমেই জেনে নেয়া যাক সুনামি হওয়ার কারণসমূহ।ভূতত্ত্ববিদদের মতে সুনামি সাধারণত চারটি কারণে সংঘটিত হয়ে থাকে। 


সমুদ্রের তলদেশে ভূমিকম্প ( Earthquake ) : ভূ-পদার্থবিজ্ঞানীদের মতে সমুদ্রের নিচে বিভিন্ন ধরনের  অভিসারী পাত থাকে,যখন একটি পাতের নিচে অপর আরেকটি পাত প্রবেশ করে তখন ভূমিকম্পের সৃষ্টি হয়। যা সমুদ্রের জলের স্থান বিচ্যুতি ঘটায়।যা বিশাল আকার জল তরঙ্গের সৃষ্টি করে tsunami। এ সকল তরঙ্গ বিধ্বংসী হয়ে বিভিন্ন ধরনের 

ধ্বংসযজ্ঞ চালায়।

ধ্বস (Landslide ) :  সমুদ্র তলদেশে ভূমি ধ্বসের ফলেও সুনামির tsunami সৃষ্টি হয়।

অগ্নুৎপাত (Volcanicity): সমুদ্র তলদেশে বিশালাকারের অগ্ন্যুৎপাতের ফলেও সুনামির সৃষ্টি হয়।

উল্কাপাত (Meteor shower):অনেক সময় মহাকাশ থেকে উল্কা বা গ্রহাণু সমুদ্রের জলে পরেও সুনামির tsunami সৃষ্টি হয়।

এখন আমরা দেখব পৃথিবীর ইতিহাসে ঘটে যাওয়া ভয়ঙ্কর পাঁচটি সুনামি:

টোহুকু ভূমিকম্প ( জাপান ) : জাপানকে বলা হয়, “Japan is called country of the tsunami.” বা সুনামির শহর ।

জাপানে  সাম্প্রতিক সময়ে  ঘটে যাওয়া সবচেয়ে বড় সুনামির মধ্যে টোহুকু  সুনামি অন্যতম ।২০১১ সালে সংঘটিত হওয়া এই ৯.০মাত্রার  ভূমিকম্পটি আঘাত হানে জাপানের উত্তর পূর্বাঞ্চলীয় শহর টোহুকুতে VIDEO।ফলশ্রুতিতে ওই অঞ্চলে ১০ (৩৩ ফিট ) মিটার উচ্চতার সুনামি আঘাত হানে।সরকারিভাবে ১৩,৩৩৩  জনের প্রাণহানির খবর প্রচারিত হয়।এবং আহতের সংখ্যা ছিল ৪,৮৭৮,২৮২  আর  নিখোঁজ ছিল প্রায় ১৫,১৫০ জন।এই সুনামির  ফলে জাপানের প্রায় তিনটি পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে থেকে হাইড্রোজেন বিস্ফোরণ ঘটে।

চিলির ভূমিকম্প: সময়টা ছিল মে মাস ১৯৬০  হঠাৎ করে চিলিতে আঘাত হানে 9 দশমিক 5 মাত্রার ভূমিকম্প। এখন পর্যন্ত এটাই পৃথিবীর সবচেয়ে ভয়াবহ ভূমিকম্প। ভূমিকম্পের ফলে  সুনামির সৃষ্টি হয় এবং সেই সুনামিতে  প্রাণ হারায় ৫৭০০ জন।চিলির এই সুনামির উচ্চতা ছিল ১৬ ফিট।চিলির এই সুনামির প্রভাব জাপান পর্যন্ত প্রসারিত হয়েছিল।


মরো উপসাগর : ফিলিপাইন। মধ্যরাত ।সময় ১৯৭৬ সালের  ১১ আগস্ট।সবাই যখন গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন তখন ফিলিপাইনের মিনদানা ও সুলু দ্বীপে আঘাত  হানে 7.9 মাত্রার ভূমিকম্প। যা পরবর্তীতে সুনামিতে রুপ নেয়।এই সুনামি অনায়াসেই পাঁচ হাজার মানুষের জীবন কেড়ে নেয়। সুনামির ঢেউয়ের উচ্চতা ছিল প্রায় পাঁচ মিটার।ফিলিপাইনের ইতিহাসে ভয়াবহ দুর্যোগ গুলোর মধ্যে এটি  অন্যতম।ফিলিপাইনের মানুষ আজও  এই দিনে  সুনামিতে নিহতদের স্মরণে বিভিন্ন ধরনের আচার-অনুষ্ঠান পালন করে থাকে।


মেগাথ্রাস্ট ভূমিকম্প( ইন্দোনেশিয়া ): ৯.১ মাত্রার  এই ভূমিকম্প আঘাত হানে ২০০৪ সালের ১৬  ডিসেম্বর ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রায়। এর ফলে সৃষ্টি হয় ভয়াবহ সুনামির। এই মেগা ভূমিকম্পের ফলে সৃষ্ট সুনামির ব্যাপ্তি ছিল,সোমালিয়ার উপকূলীয় অঞ্চল থেকে ভারত মহাসাগরের  তীরবর্তী অনেক দেশ পর্যন্ত।  এই  সুনামির ফলে কেবল ইন্দোনেশিয়াতেই ১ লাখ ৭০ হাজারের ও বেশি মানুষের প্রাণহানি হয়। নিহত সংখ্যা সবচেয়ে বেশি ছিল ইন্দোনেশিয়ার আচেহ প্রদেশ। এই সুনামিতে পৃথিবীর আরো অনেক দেশে ৫০ হাজারেরও বেশি মানুষের প্রাণহানি হয়। সব মিলিয়ে সেই সময় মৃত্যুর সংখ্যা ২ লাখ ছাড়িয়ে যায়। এই সুনামিকে  এখন পর্যন্ত পৃথিবীর  ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ দুর্যোগগুলোর একটি  ধরা হয় । সেই সময় আচেহ প্রদেশে  বেশ কিছুদিন বৈদ্যুতিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল ।

 

পাপুয়া নিউগিনি : ১৯৯৮ সালের ১৭ জুলাই । পাপুয়া নিউগিনির  ইতিহাসে একটি কালো অধ্যায় ।এই দিনের পর পর দুইবার ভূমিকম্প অনুভূত হয় পাপুয়া নিউগিনিতে। দুইটি ভূমিকম্পের  মাত্রা ছিল সাত। যার ফলে সৃষ্ট সুনামির  পানি সমুদ্রতীরবর্তী  ৩০ কিলোমিটার অঞ্চল পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে।সেই পানিতে প্লাবিত হয় সাতটি গ্রাম। গৃহহীন হয়ে পরেন প্রায় ১২ হাজারের  ও অধিক মানুষ। সরকারি মতে এই সুনামিতে প্রাণ হারায় প্রায় দুই হাজারেরও বেশি মানুষ। তবে স্থানীয়দের মতে সেই  সংখ্যা ছিল ছয় হাজারের ও বেশি। যা এখন পর্যন্ত পাপুয়া নিউগিনির ইতিহাসে সবচেয়ে  ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগগুলির একটি।

এছাড়া পৃথিবীতে আরও বহু সুনামির ঘটনা রয়েছে যা এখনো ভয়ঙ্কর মাত্রা অতিক্রম করেছে । বহু প্রাণী মারা গিয়েছে। সুনামি থেকে নিজেকে নিরাপদ রাখতে সমুদ্র তীরে ভ্রমণের সময় সতর্ক থাকতে হবে। সমুদ্রের পানি নিচে নেমে গেলে দ্রুত তীরে চলে আসতে হবে এবং সুনামির সঙ্কেত অনুসরণ করতে হবে। উঁচু স্থানে অবস্থান করতে হবে।

Please follow and like us:

%d bloggers like this: