অরিগ্যামি


অরিগ্যামি শব্দটির সাথে আমরা কম বেশি সবাই পরিচিত, নিজেদের অজান্তেই।ছোটবেলায় অরিগ্যামি নিয়ে খেলে নি, এমন মামুষ খুব কমই খুঁজে পাওয়া যাবে। বৃষ্টির পানিতে কাগজের নৌকা বানিয়ে ভাসানোর স্মৃতি কিংবা বন্ধুদের সাথে এরোপ্লেন উড়ানোর স্মৃতি হয়ত আমাদের সবারই আছে।কিন্তু তখন কি আমরা কেউ জানতাম এই কাগজ ভাঁজ করে করে কিছু বানানোর খেলারও একটা নাম আছে?বেশিরভাগই জানতাম না,আবার কেউ হয়ত জানতাম আগে থেকেই।এখন সবার মনে একটাই প্রশ্ন কি সেই নাম আর তা হলো অরিগ্যামি। হ্যা,এটা সেই অরিগ্যামি,যেটা জাপানি ঐতিহ্য থেকে উদ্ভূত হয়ে সারা বিশ্বে এখন প্রচলিত।

অরিগ্যামি কি?

অরিগ্যামি (Origami) মূলত একটা জাপানি শব্দ।”অরি” (ori) অর্থ ভাঁজ আর “কামি” (kami) অর্থ পেপার বা কাগজ। জাপানি সংস্কৃতির জন্য পরিবর্তিত হয়ে অরিগ্যামি (Origami) হয়েছে, এখানে “গ্যামি” (gami) এক ধরণের শিল্প কাগজ যার মূল অর্থ দাঁড়ায় কোনো কাগজ কে না কেটে ভাঁজ করে শৈল্পিক চেতনা দিয়ে কাগজ ও সৃজনশীলতার মেলবন্ধনে বিভিন্ন জিনিসের দ্বিমাত্রিক অথবা ত্রিমাত্রিক আকৃতি প্রদান করা।

অরিগ্যামি এর উৎপত্তি

ইতিহাসবিদের মতে, এই অরিগ্যামি এর সাথে নাকি কাগজ আবিষ্কার এর একটা নিগূঢ় সম্পর্ক রয়েছে। আমরা যে কাগজে লিখি, অরিগ্যামি করি,ঘুড়ি বানায় এসব কিছুই সম্ভব হয়েছে চাইনিজদের কারণে,কেননা এই কাগজ সর্বপ্রথম চীনে আবিষ্কৃত হয় ১০৫ খিস্টাব্দের দিকে। তারও পরে ৬ষ্ঠ শতাব্দী তে এ কাগজ জাপানে আসে কিছু সংখ্যক বৌদ্ধ সন্ন্যাসী আর বৌদ্ধ ভিক্ষুকদের হাতে। ইতিবিদেরা এখান থেকেই ধারণা করেন অরিগ্যামি এর যাত্রা শুরু।তার কিছু যথার্থ কারণ ও ছিল,যেমন একটা বিশেষ কারণ হচ্ছে তখনকার দিনে কাগজ অনেক মূল্যবান আর দামি বস্তু ছিল জাপানে,যা কিনা খুব কম সংখ্যক লোকের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে ছিল।এগুলোকে তখন আর্কিটেকচারের কাজে লাগানো হত।আর যেখানে দেখা যেত সেটা হচ্ছে কোনো ধর্মীয় বা বিয়ের অনুষ্ঠানে সাজসজ্জার সরঞ্জাম করতে।জাপানে শিন্তো (Shinto) ধর্মাবলম্বীদের বিয়েতে কাগজের প্রজাপতি বানানোর প্রচলন ছিল,কথিত আছে এটাকে নাকি বিয়ের বর-কনের প্রতীক হিসেবে তারা দেখত।এছাড়াও সামুরাই যোদ্ধারা একে অপরকে কাগজের ভাঁজ করা শিল্প দিয়ে তৈরী উপহার পাঠিয়ে শুভকামনা জানাত।এসব হিউয়ান আমল থেকেই হয়ে আসছে জাপানের ঐতিহ্যকে সমৃদ্ধ করতে সমৃদ্ধশালী করে ধরে রাখতে এখন এই ক্রাফট আরো অনেক নতুনত্বে ভরপুর।
ইয়োশিজাওয়াকে (Yoshizawa) আধুনিক অরিগ্যামি এর জনক বলা হয়।তিনি প্রায় ৫০ হাজারেরও বেশি অরিগ্যামিক মডেল বানিয়েছিলেন,বিংশ শতাব্দীর শুরু থেকেই তিনি এই কাজে ছিলেন।তিনি তাঁর কাগজ ভাঁজ করার টেকনিক গুলো সব সময় তাঁর নোটবুকে উঠাতেন,এখানেই থেমে থাকেন নি তিনি অরিগ্যামি নিয়ে তিনি প্রায় ১৮ টি বই লিখেছিলেন। তিনি তাঁর বন্ধু স্যামুয়েল র‍্যান্ডলেট কে সাথে নিয়ে ইয়োশিজাওয়া র‍্যান্ডলেট সিস্টেম নামে (Yoshizawa Randlett System) একটি ডায়াগ্রাম তৈরী করেন।এখানে তিনি দেখিয়েছেন অরিগ্যামি এর সেই মৌলিক ভাঁজ গুলো। যেই মৌলিক ভাঁজ গুলোর সমন্বয় করে নতুন নতুন জিনিস বানানো যায়।এগুলার জন্য ব্যবহৃত হত জাপানের ঐতিহ্যবাহী অরিগ্যামি কাগজ ওয়াশি।

অরিগ্যামি এর ৯টি মৌলিক ভাঁজ


উপত্যকা বা পর্বত
প্লিট
খরগোশ এর কান
বাইরের বিপরীত
অভ্যন্তরীণ বিপরীত
ক্রিম্প
সিঙ্ক
স্কোয়াশ
পাপড়ি
অরিগ্যামি এর প্রকারভেদ
কিরিগ্যামি (Kirigami)
কিরি মানে কাটা আর গ্যামি শিল্পের কাগজ, কিরিগ্যামি মানেই হচ্ছে কাটা কাগজ দিয়ে তৈরী শিল্পকর্ম। কাঁচি আর এন্টি কাটার এই ২টা জিনিস লাগে এতে।
মডুলার অরিগ্যামি (Modular Origami)
এটি মূলত ৩ডি অরিগ্যামি। কাটা কাগজ জোড়া দিয়ে করা হয়। হেক্সাগোনাল বক্স,রেক্ট্যাঙ্গুলার বক্স আরো অনেক কিছু।
ওয়েট ফোল্ডিং অরিগ্যামি (Wet Folding Origami)
কাগজ ভিজিয়ে কোনো কিছুর ভাস্কর্য কে আকৃতি প্রদান কিরা হয়,কুকুর, বেড়াল, ব্যঙ এমন অনেক কিছু।

অরিগ্যামি চর্চা আগেও ছিল এখনও আছে,এসব শেখার কিছু ইউটিউব চ্যানেল আছে যেমন,Kade chan,Happy folding,Henry pham

Please follow and like us:

উপমা সাহানী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Next Post

মহামারী সংকলন-২ ( খৃষ্টপূর্ব ৪৩০ এর এথেন্সের প্লেগ মহামারী )

Mon Jun 8 , 2020
প্রাচীন গ্রীকে পেলোপনেশিয়ান যুদ্ধের ২ বছর পর একটি মহামারী এথেন্স শহরকে বিধ্বস্ত করেছিল। এই যুদ্ধ সংগঠিত হয়েছিল এথেন্স ও স্পার্টার মধ্যে । যুদ্ধে তখন জয়ের কাছে পৌছে গিয়ে ছিল এথেন্সিয়ানরা। প্লেগ নামের এই মহামারী ৭৫,০০০ থেকে ১,০০,০০০ মানুষের জীবন নিয়ে নিয়েছিল। ধারনা করা হয়, পাইরেয়াসের মাধ্যমে এথেন্সে প্রবেশ করেছে এই […]