স্পেস ক্রাফটের চারিদিকে আগুন কেন আসলে আগুন নয়? কেন অদৃশ্য হয়ে যায়?
আর্টেমিস ২ স্পেসক্রাফট যখন পৃথিবীতে অবতরণ করার জন্য উচ্চ গতিতে পৃথিবীর দিকে ধাবমান, তখন স্পেসক্রাফ্টে আগুন ধরে যায়। স্পেসক্রাফটের গতি প্রতি ঘন্টায় পঁচিশ হাজার মাইল থেকে কেন ঘন্টায় পনেরো হাজার মাইল এ কমে যায়? এই প্রশ্নটার একটি সহজ উত্তর হলো।
পৃথিবীর চারিদিকে বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করার আগ পর্যন্ত স্পেসক্রাফট উচ্চ গতিতে গতিশীল থাকে।
কিন্তু যখন বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে, তখন বায়ুমণ্ডলের ধূলিকণার সংঘর্ষের কারণে স্পেসক্রাফটের গতি কমে যায়। উচ্চ গতিসম্পন্ন স্পেসক্রাফট মূলতঃ গতিশক্তিকে তাপশক্তিতে রূপান্তর করে, এবং স্পেসক্রাফটের চারিদিকে আমরা আগুনের মতো প্রজ্বলিত হতে দেখি।
স্পেসক্রাফট যখন বায়ুমণ্ডলের উচ্চস্তর থেকে নিম্ন স্তরে আসে, তখন গতি ঘন্টায় পঁচিশ হাজার মাইল থাকে, গতি ঘন্টায় পনেরো হাজার মাইল পর্যন্ত কমে যায়। প্রধান কারণ হল পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে ধূলিকণা উপস্থিত।এই ধুলিকণাগুলো স্পেসক্রাফটের বাধা সৃষ্টি করে এবং গতি কমিয়ে দেয়। উচ্চ গতিসম্পন্ন স্পেসক্রাফট নিয়ে যখন নভোচারীরা পৃথিবীর দিকে আসে, তখন গতি কমানোর প্রয়োজন। পৃথিবীতে নিরাপদে অবতরণের জন্য গতি কমাতে হবে। উচ্চ গতিসম্পন্ন স্পেসক্রাফটের গতিশক্তি তাই বাধা প্রাপ্ত হয়ে তাপশক্তিতে রূপান্তরিত হয়।
চারিদিকে আগুন আসলে আগুন নয়।
আমরা স্পেসক্রাফটের চারিদিকে আগুন জ্বলতে দেখি। এ আগুন আসলে আগুন নয়। স্পেসক্রাফট যখন উচ্চ গতিতে পৃথিবীর দিকে ধাবমান, তখন পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের সাথে সংঘর্ষ হয়।
বায়ুমণ্ডলের সাথে ঘর্ষণের কারণে গতি শক্তি তাপ শক্তিতে পরিণত হয় এবং এই ঘর্ষণের ফলে একটি প্লাজমা তৈরি হয়। এই প্লাজমা মূলতঃ বায়ুমণ্ডল বিদ্যুতায়িত হয়ে যাওয়া এবং গতিশীল থাকার কারণে এই প্লাজমা অবস্থা তৈরি হয়। এভাবে চলতে থাকলে একটি পর্যায়ে গতি আরো কমে যায়। গতি কমে যাওয়ার কারণে প্লাজমা অবস্থা আর থাকে না। কারণ বায়ুমণ্ডল আয়োনাইজড হওয়ার জন্য অত্যধিক তাপ দরকার।
পৃথিবী পৃষ্ঠের কাছাকাছি যখন চলে আসে, তখন গতি আরো কমে যায়। তখন আমরা স্পেসক্রাফটের চারিদিকে আর আগুনের মতো প্রজ্জ্বলিত অবস্থা দেখতে পাই না।একটা পর্যায়ে নভোচারীরা প্যারাসুট উৎক্ষেপণ করে। প্যারাসুটের কারণে স্পেসক্রাফটের গতি আরও কমে যায় এবং নিয়ন্ত্রিতভাবে পৃথিবীর পৃষ্ঠে, বিশেষ করে সমুদ্রের জলরাশির উপর আছড়ে পড়ে।


