এতো ব্যর্থতার পরেও মন কিছুতেই হাল ছাড়তে চায় না। ছাড়বেই বা কি করে ছেলেবেলায় পড়া কামিনী রায়ের সেই কবিতা আমাকে নাছোড়বান্দা হতে শিখিয়েছিল।- ‘একবার না পারিলে দেখ শতবার’। বিভাগ তো মোটে গোটা পঞ্চাশেক সে হিসেবে প্রতি বিভাগে দু বার করে ট্রাই করার সুযোগ তো রয়েছেই। অতপর আবার অভিযান।
কলা-মানবিকে যখন প্রেমের চাকা ঘুরলো না তখন ভাবলাম এবার একটু রসায়নের চেষ্টা করে দেখি যদি রসের দেখা পাই। কিন্তু- দ্বিতীয় বিজ্ঞান ভবনের এক ল্যাব থেকে বেরিয়ে রসায়নের বেরসিক মেয়েটি কটকট চোখে তাকিয়ে বলেছিলো ‘এক কেজি পটাশিয়াম সায়ানাইড খাইয়ে এ্যপ্রোন টা গায়ে জরিয়ে দেবো’, একথা তখন শুনে পুলক অনুভব করলেও পরে বুঝেছিলাম ওটা ছিলো কাফনের কাপড়।
চারুকলার বয়কাট মেয়েটির সাথে ভালোই সখ্যতা গড়ে উঠেছিল, কিন্তু তার মুখে যে প্রস্তাব পেলাম তাতে আমার কান গরম হয়ে উঠেছিল। আমায় নাকি তার- ন্যু… স্টাডির মদেল হিসেবে দরকার।
মৎস্যকন্যার সাথে পরিচয় ঘটে বাসস্টপে, একদিন বলে কি- ‘ যতই টোপ দাও তোমার বড়শিতে আমি গাঁথছিনা।’
গণিত বিভাগের মেয়েটি আমার প্রস্তাব বিবেচনায় রেখে শর্ত দিয়েছলো- হলে থাকা চলবে না’, চুটিয়ে প্রেম করতে হলে নাকি আমায় থাকতে হবে মাস্টার আব্দুর রহিম ছাত্রাবাসে।- কিন্তু, টাকার অভাবে যেতে পারিনি।
আবার গোড়া থেকে শুরু করবো ভাবলাম, তখনই দর্শনের আধাপাগলি মেয়েটি বলেছিলো- তুই তো জানিস না পৃথিবীতে সবই অর্থহীন।
আর সেই অর্থহীন পৃথিবীতে অর্থনীতির মেয়েটি শুনিয়েছিলো- ‘তোমায় দিয়ে চাহিদা আর যোগানের সমতা সম্ভব নয় অতএব,’।