গল্প
-
ঘড়ির ভালোবাসা
ঘড়ির ভালোবাসা আমি যখন জাপানে আসি তখন ঘড়ি পরার খুব শখ ছিল। তখন আমার কোন ঘড়ি ছিল না । আমরা বাংলাদেশ থেকেই শুনেছিলাম যে জাপানের ঘড়িগুলো খুব উন্নত মানের এবং সঠিক সময় দেয়। তাই জাপানে এসে প্রথমেই একটি ঘড়ির দোকানে গেলাম । সেখানে গিয়ে দেখলাম যে ঘড়ি গুলো অনেক দামি 10 হাজার জাপানি ইয়েন। আমার কাছে অত টাকা ছিল না যে আমার শখ পূরণ করতে পারব তাই ঘড়ি কেনার ইচ্ছাটা আপাতত বাদ দিলাম। ঘড়ি ছাড়াই আমি স্কুলে যেতাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পৃথিবী বিজ্ঞান বিভাগে। বাংলাদেশ থেকে যারা আসে তারা সাধারণত প্রথম দিকে সস্তা দোকান খুঁজে এবং পুনরায় ব্যবহার যোগ্য জিনিসপত্রের দোকান যার নাম বুক অফ। এই দোকানটা সবার পছন্দ কারণ এখানে দামি…
-
গল্প:পরকীয়া
পরকীয়া দিবাকরের বিবাহিত জীবন ভালোই চলছিল । প্রেমের বিয়ে । স্কুল জীবন থেকে প্রেম করে শেষ পর্যন্ত বিয়েতে গড়িয়েছে। মাঝে মাঝেই স্ত্রীর স্কুল জীবনের নীল সাদা ইউনিফর্ম পরিহিত ছবিটা দেখে আর অতীতের লুকিয়ে প্রেমের দিন গুলোকে ভাবে। ওর বাসায় এটাই ওর দেয়ালে টাঙ্গানো সেরা ছবি। তারা বিবাহিত জীবনের 10 বছরে পদার্পণ করল, কোনরকম উদযাপন ছাড়া। দিবাকরের স্ত্রী প্রিয়ংবদা। তাদের তিনটি সন্তান। যদিও বর্তমানে দুইয়ের অধিক সন্তান সমাজে ভিন্ন দৃষ্টিতে দেখা হয়। তিনটি সন্তান নিয়ে বাইরে বের হলে, অধিক জনসংখ্যার পরিবার বলে মানুষের কথা শুনতে হয়। প্রিয়ংবদা অধিক সন্তানে স্বচ্ছন্দ বোধ করে। তিনটি সন্তানই পেট কেটে বের করে আনা। দিবাকরের এব্যাপারে কোন মন্তব্য নেই। ভালো কি মন্দ! অনেক চড়াই-উতরাই করে পার…
-
একজন প্রেমকুমারের অপ্রেমের কাহিনী
Short stories: একজন প্রেমকুমারের অপ্রেমের কাহিনী সারাজীবনে আর কিছু করতে না পারি, ক্যাম্পাস জীবনে অন্তত একজন রমনীকে ম্যানেজ করতে পারবো এই আশা নিয়ে ভর্তি হয়েছিলাম ম্যানেজমেন্ট বিভাগে। কিন্তু নিয়তির একি পরিহাস- অনেক কাঠখর পুড়িয়ে সায়েন্স-কমার্স তো দূরের কথা ইতিহাসের কোনো পাতিসুন্দরীকেও বাগে আনতে পারিনি। শহীদুল্লাহ্ হলের আম বাগানে পৌঁছাতে একদিন সাত মিনিট দেরি হবার কারনে বাংলা বিভাগের এক ললনা বলেছিলো- ভালোই আছো তোমার ডেবিট-ক্রেডিট নিয়ে, তাই নিয়ে থাকো। তোমায় দিয়ে প্রেম চর্চা হবে না। Love is nothing it is misunderstanding between two stupids বাক্যটি আমায় শুনিয়েছিলো ইংরেজি বিভাগের ফেয়ার লেডি। বেশকিছুদিন এক রেঁস্তোরার ক্যাশ বাক্সে ব্যালেন্স ট্রান্সফারের পর মোক্ষম সময়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের দরাজ কন্ঠের মেয়েটি আচানক ওয়াক আউট করে বসলো। …
-
নিভু প্রদীপ
নিভু প্রদীপ নিভু প্রদীপ লিখেছেন রাইহান ———– রাবেয়ার স্বামী নেয়ামত আলির তিন চার দিন ধরে জ্বর, কাজে যেতে পারছে না। তিনি ভ্যান গাড়ি করে ঝালমুড়ি, বুট ভাজা, চানাচুর মাখা এসব বিক্রি করতেন। ঘরে জমানো টাকা যা ছিলো তা প্রায় শেষ। রাবেয়া ভাবছে, কাল সে নিজেই ভ্যান গাড়ি নিয়ে বের হবেন। আশার আলো সমিতির কিস্তি দেয়ার জন্য কুলসুম ভাবির থেকে পাঁচশ টাকা ধার এনেছিলো রাবেয়া। মঙ্গলবার ফেরত দেওয়ার কথা ছিলো কিন্তু দিতে পারে নাই, বলেছে শুক্রবার দিবে। আজ শুক্রবার, বসে বসে টাকা গুনতেছে। মোট ৪৫০ টাকা হলো, আরো পঞ্চাশ টাকা দরকার। বিছানার নিচে, কাপড়ের ভাঁজে, আলমারির ভেতর অনেক খুঁজেও একটা টাকা পেলো না। রতন জিজ্ঞেস করলো, মা তুমি কি খুঁজতেছো? রাবেয়া…
-
নিয়তি
নিয়তি soci,gov,man, সজীব ঘটক—————–বিশ্ববিদ্যালয় আজ প্রায় চার মাস ছুটি হয়েছে। ঘরে বসে থাকতে থাকতে খুবই বিরক্ত লাগছিল, সমস্ত শরীরে যেন প্রচন্ড এক অলসতা বাসা বেধেছে। কোন কাজে মন বসেনা, জীবনটা কেমন যেন খাপছাড়া আর একগুয়ে স্বভাবের হয়ে গেছে। ইচ্ছে করে বাইরে কোথাও ঘুরে আসি। কিন্ত সারা পৃথিবীজুড়ে ভয়ঙ্কর এক মহামারী দেখা দিয়েছে, করোনা। এটা এক ধরনের ছোঁয়াচে রোগ, যার কোন প্রতিশেধক এখনও পর্যন্ত আবিষ্কৃত হয়নি। একারনেই দেশের সকল স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে। সমগ্র পৃথিবী এই ভয়ঙ্কর রোগের কারনে অচল হয়ে পড়েছে। বিনা কারনে ঘর থেকে বেরোনো নিষেধ করা হয়েছে। তাই মন চাইলেও বাইরে যাওয়ার উপায় ছিলো না! তাছাড়া বাবা-মায়ের কঠোর অনুশাসন তো আছেই। যাই হোক…
-
এক পলকে অভিশপ্ত
এক পলকে অভিশপ্ত ফ্লোরা পারভীন তামান্না——————————–বদ্ধ ঘরে জানালার পাশে এলোমেলো চুল খুলে দাঁড়িয়ে আছি। আকাশটা অন্ধকার মেঘে ঢেকে আছে। মনে হচ্ছে বৃষ্টি হবে, কিন্তু বৃষ্টির কোনো চিহ্ন নাই। যদি বৃষ্টির ছোঁয়ায় সব অভিশাপ ধুয়ে মুছে নিয়ে যেত। এইসব ভাবতে ভাবতে চোখ দিয়ে এক ফোঁটা অশ্রু গড়িয়ে পড়ল। কিছুদিন আগেও আমার জীবনটা ছিলো স্বাভাবিক, হাসি-খুশি আর আনন্দমুখর। আজ তা সবই কল্পনা। এই কিছুদিন আগেও আমি ইন্টার সেকেন্ড ইয়ারে পড়তাম। আজ সবই তা অবাস্তব অধ্যায়। পড়াশোনায় ভালোই ছিলাম। ইচ্ছা ছিল পড়াশোনা করে মা-বাবার পাশে দাঁড়াবো। হঠাৎ পৃথিবীতে মহামারি করোনার কারণে সবকিছু লকডাউন করে দেওয়া হলো। সেই কারণে কলেজও অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হলো। প্রথম একমাস পরিবারে সাথে ভালোই কেটেছে। লকডাউনে কারণে…
-
গোধূলি সন্ধ্যা
গোধূলি সন্ধ্যা দীপা রায়————–ঘড়িতে সকাল ৭.৩০ মিনিট। এলার্ম বেজে উঠল ক্রিং ক্রিং ক্রিং। ইস! আমার সাধের ঘুমের শত্রুটাকে কে যে অন করে রাখছে! ধুর ভাল্লাগেনা, আর একটু ঘুমাই।-রীদি, এই রীদি ঘুম থেকে উঠবি না? অনেক বেলা হয়ে গেছে তো। তোর না আজ কলেজে প্রোগাম আছে।-উফ! মা, আর একটু ঘুমাই। -৮ টা কিন্তু বাজে পরে আমাকে দোষ দিতে পারবি না যে আমি ডাকি নাই।-ইস, মা আর একটু আগে ডাকতে পারলা না?-আমি যে তোর ঘড়িতে এলার্ম দিয়ে রেখেছিলাম, তুই তো আগের মতোই, বন্ধ করে আবার ঘুমাইছিস।-উফ! মা, উঠতেছি। সকাল সকাল তোমার বিবিসি চালু করো না তো।-আমি ভাল কথা বললেই দোষ, যা তাড়াতাড়ি তৈরি হয়ে নে।-যাচ্ছি তো। এ হচ্ছে রীদিকা। যার প্রিয়…
-
মুক্তিযুদ্ধের একটি সোনালী পাতা
মুক্তিযুদ্ধের একটি সোনালী পাতা 1971 সাল। মার্চ মাস। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার ডাক দিলেন । শুরু হলো মুক্তিযুদ্ধ। সারাদেশে চলছিল যুদ্ধ। স্বাধীনতার জন্য মুক্তিসেনারা লড়াই করছিলেন। তখন জুন মাস। এদেশেরই একটি গ্রাম। ওই গ্রামে ছিল জঙ্গল ঘেরা পুরনো এক জমিদার বাড়ি। সেখানে একদল মুক্তিসেনা ঘাঁটি গেড়েছেন সঙ্গে ছিলেন তাদের দলনেতা। পাশের গ্রামে ছিল পাকিস্তানী মুক্তিসেনারা। হঠাৎ তারা গুলি চালাতে লাগলো মুক্তিসেনাদের দিকে। বিপদ টের পেলেন দলনেতা। শত্রুরা তখন খুবই কাছে। গুলি ছুটে আসতে লাগলো চারিদিক থেকে, কি করবেন মুক্তিসেনারা। মুক্তিসেনাদের পিছনে ছিল একটা বড় গ্রাম। সেখানে অনেক মানুষের বাস। পিছুহটে গেলে শত্রুরা সহজেই গ্রামটি ধ্বংস করবে। এতে ঘরবাড়ি পূর্বে অনেক মানুষ মরবে।তা তো হতে দেয়া যায় না। জীবন দিয়ে…
-
জল পরি ও কাঠুরে
জল পরি ও কাঠুরে এক বনে বাস করত এক গরীব কাঠুরে। কাঠ বেঁচে তার সংসার চলত। একদিন কাঠুরের নদীর ধারে কাঠ কাটছিল। হঠাৎ করে কুড়াল টি পড়ে গেল নদীতে। নদীতে ছিল অনেক রকমের ভয়। নদীতে নামতে পারল না। কুড়াল কেনার টাকা ছিল না। তাই মনের দুঃখে সে কাঁদতে লাগল। এভাবে কিছুক্ষন কেটে গেল। হঠাৎ নদী থেকে উঠে এল এক জলপরী। সে কাঠুরে কে বলল তুমি কাঁদছোকেন? কাঠুরে বলল আমার কুড়াল টি নদীতে পড়ে গেছে। জলপরী বলল তুমি কেদোনা আমি দেখছি। জলপরী নদীতে ডুব দিল একটু পরে একটু পরে উঠে এলো। সোনার কুড়াল হাতে । বলল এটা কি তোমার? কাঠুর ভাল করে দেখে বলল না এটা আমার না। জলপরী আবার ডুব…
-
মুক্তি
মুক্তি || নিয়াজ মোর্শেদ হিমু ———————– দরগা মসজিদ থেকে ভেসে আসছে ফজরের আযান। পাখির কলরবে চারিদিক যেন মুখরিত। হাতে তসবি নিয়ে মসজিদের দিকে যাচ্ছে কিছু ধার্মিক মুসলমান, তারই পাশ দিয়ে বইঠা হাতে পদ্মাপারের দিকে যাচ্ছে একদল জেলে। জীবিকার টানে বিছানা ছেড়ে আসতে একটুও কুণ্ঠিতবোধ হয় নি তাদের। এ যেন পদ্মাপারের জেলেদের নিয়মিত চিত্র। কুদ্দুস মিয়া এদের দলেরই একজন। এক ছেলে আর এক মেয়ে নিয়ে তার ছোট সংসার। কিন্তু অভাব-অনটনে তাকে প্রায়ই ধার-দেনা করে চলতে হয়। দারিদ্র্যের কষাঘাতে জীবন যেন বিপন্ন তার। আজকে কুদ্দৃুস মিয়া একটু আগেই বের হয়েছেন। অন্যদিনের চেয়ে প্রয়োজনটা আজ বেশি তার। তার বড়ো মেয়ে জয়া অসুস্থ। আগামীকাল অপারেশনের লাস্ট ডেট। ডাক্তার বলেছেন আজকের মধ্যে টাকা জমা দিতে না…
-
একজন আদর্শ শিক্ষকের দায়িত্ব ও কর্তব্য
একজন আদর্শ শিক্ষকের দায়িত্ব ও কর্তব্য একজন আদর্শ শিক্ষকের কাজ হল শিক্ষার্থীদের প্রকৃত মানুষ করে গড়ে তূলতে সহযোগিতা করা। সে জন্য ছাত্র ছাত্রীদের কে মনুষ্যত্ব বিষয়ে জ্ঞান প্রদান করা। একজন আদর্শ শিক্ষক শুধুমাত্র জ্ঞান প্রদানকারী নয়, বরং একজন মূল্যবোধের প্রেরক, একজন মার্গদর্শক এবং একজন প্রেরণাদায়ী ব্যক্তিত্ব। তিনি শুধুমাত্র শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা শেখান না, বরং তাদেরকে একজন সুস্থ ও সফল মানুষ হিসেবে গড়ে তোলেন। আদর্শ শিক্ষকের দায়িত্ব ও কর্তব্য: জ্ঞান প্রদান: নিজের বিষয়ের উপর দক্ষতা অর্জন করা এবং তা সহজ ও বোধগম্য ভাষায় শিক্ষার্থীদের শেখানো। নতুন পদ্ধতি ও প্রযুক্তি ব্যবহার করে শিক্ষাদান। শিক্ষার্থীদের জিজ্ঞাসু প্রকৃতি বিকাশ করা এবং তাদের প্রশ্নের সন্তোষজনক উত্তর দেওয়া। মূল্যবোধ গঠন: সততা, নৈতিকতা, দেশপ্রেম,…
-
আবার যাবো শৈশবে
আবার যাবো শৈশবে বিজয় পাল————-জীবন যেন পদ্মপাতার একবিন্দু শিশির। জীবনের এই চিরন্তন সত্যকে উপেক্ষা করিয়া ঐ নীল সমুদ্রের উত্তাল ঢেউয়ের মতোই তীব্রবেগে এগিয়ে চলে এ জীবন। স্বপ্নগুলো যেন আকাশের ঐ রংধনুর মতোই। শ্রাবনের কোনো এক সায়হ্নে যখন মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছিল, হৃদয় ছেয়ে গিয়েছিল একাকিত্বের কালো মেঘে তখন একলা বসিয়া জীবনের প্রতিটা অধ্যায় স্মরণ করিতে করিতেই অন্তরচক্ষু একটু পিছনে ফিরে তাকাল। চোখের পাতায় ভেসে উঠল সেই স্মৃতিময় শৈশব। সেখানে ছিল বৃষ্টিতে ভেজার আনন্দ, ছিল কাদার ভিতর গড়াগড়ি খাওয়ার আনন্দ। বৃষ্টি পড়তেই যেন বাতাবিলেবু দিয়ে ফুটবল খেলার ধুম লেগে যেত। ফুটবল খেলা শেষে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে দিয়ে পড়া, সে তো এক স্বর্গীয় অনুভুতি। বর্ষার নদীতে চালুনি দিয়ে মাছ ধরার আনন্দও বা কম…
-
জিও কাকু
জিও কাকু তনয় সরকার—————-ইমনের স্কুলে আজ থেকে গরমের ছুটি শুরু হয়ে গেছে। ইমন ও তার বন্ধুরা বাড়ি ফেরার পথে প্ল্যান করতে লাগল কোথায় যাওয়া যায়। ইমন তাই তার বন্ধুদের বলল যাতে বিকালে সবাই বৈঠকে দেখা করে।বিকাল ৪.০০ টা। ইমন ও তার বন্ধু শফিক আর রানা বৈঠকে হাজির। সবার চোখে মুখে চিন্তার ছাপ। সবাই সবার মন মতে জায়গার নাম বলছে। কিন্তু কোনো জায়গাই যেনো জমছে না। হঠাৎ ইমন বলে উঠল, “জিওকাকু”। সবাই অবাক হয়ে বলল জিওকাকু কে? ইমন বলল, আমার দূর সম্পর্কের ছোটো কাকু। যিনি অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে জিওসায়েন্স এ পিএইচডি করছেন। আমি মজা করে জিওকাকু ডাকি।শফিক বলল, তা তো বুঝলাম কিন্তু এখন কাকার বাসায় গিয়ে কি করবি? ইমন বলল,-আরে শফিক…
-
একটি পতাকা
একটি পতাকা রায়হানুল ইসলাম শাকিল রানু স্কুল শেষে বাসায় ফিরে সারা বাড়ি হোন্নে হয়ে খুঁজেও মাকে না পেয়ে ভ্যাবলাইকে নিয়ে কাঁঠাল তলায় বসে আছে।ভ্যাবলাই কে তার খুব পছন্দ।মন খারাপ হলেই সে ভ্যাবলাই এর সাথে গল্প করে।আজ তার সাথে গল্প করতেও রানুর ভাল লাগছে না। একে তো চৈত্র মাসের কাঠ ফাটা রোদ তার সাথে যোগ হয়েছে ভয়ঙ্কর রকমের ক্ষুধা।ভ্যাবলাই তার ভাগের দুধ সাবাড় করে উদর পূর্তি করে বসে আছে।হঠাৎ মার গলার আওয়াজ পেয়ে রানু দৌড়ে গিয়ে মাকে জড়িয়ে কাঁদো কাঁদো গলায় নালিশ করল।কোথায় ছিলে?ভাত দাও। রানু হাত ধুয়ে খেতে বসল। মাছের কাটা গুলো ভ্যাবলাইয়ের দিকে ছুড়ে দিয়ে সে হাত ধুয়ে শুয়ে পড়ল।খুব ক্লান্ত লাগছে তার তবুও সে ঠিক করেছে ঘুমাবেনা।বিকেলে রহিমাদের…
-
বাংলা গল্প জল পরি ও কাঠুরে
বাংলা গল্প জল পরি ও কাঠুরে এক বনে বাস করত এক গরীব কাঠুরে। কাঠ বেঁচে তার সংসার চলত। একদিন কাঠুরের নদীর ধারে কাঠ কাটছিল। হঠাৎ করে কুড়াল টি পড়ে গেল নদীতে। নদীতে ছিল অনেক রকমের ভয়। নদীতে নামতে পারল না। কুড়াল কেনার টাকা ছিল না। তাই মনের দুঃখে সে কাঁদতে লাগল। এভাবে কিছুক্ষন কেটে গেল। হঠাৎ নদী থেকে উঠে এল এক জলপরী। সে কাঠুরে কে বলল তুমি কাঁদছোকেন? কাঠুরে বলল আমার কুড়াল টি নদীতে পড়ে গেছে। জলপরী বলল তুমি কেদোনা আমি দেখছি। জলপরী নদীতে ডুব দিল একটু পরে একটু পরে উঠে এলো। সোনার কুড়াল হাতে । বলল এটা কি তোমার? কাঠুর ভাল করে দেখে বলল না এটা আমার না। জলপরী…
-
গোপাল ভাঁড় এর নির্বাচিত সেরা গল্প সমূহ
চিঠি গোপালের অল্প বয়সে বাবা মারা গিয়েছিল, তাই সে লেখাপড়া বিশেষ শিখতে পারেনি। লেখাপড়া বিশেষ কিছু না জানলেও মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্রের ভাঁড় বা সভাসদ হিসেবে চারদিকে তার নাম ছড়িয়ে পড়েছিল । শুধু পাড়া-প্রতিবেশী নয় সারা কৃষ্ণনগরের লোক তাকে সম্মান করতো। কারো কোন যুক্তি পরামর্শ দরকার হলে গোপালের কাছে আসতো । একদিন দুপুরে বসে গোপাল ভাঁড় তামাক খাচ্ছে এমন সময় তাদের পাড়ার এক বুড়ি এসে বলল ভাই গোপাল ছেলেটার অনেকদিন কোন খবর পাচ্ছি না, তাকে একখানা চিঠি লিখে দাও না। গোপাল দেখল মহাবিপদ। এবার আমার বিদ্যা বুদ্ধি ধরা পড়ে যাবে। তাই সে বলল আজ তো আমি চিঠি লিখতে পারছিনা ঠাম্মা। বলল কেন ভাই গোপাল? মুখ বেঁকিয়ে যন্ত্রণা কাতর স্বরে গোপাল ভাঁড় বলল…











