কিটো ডায়েট কি সবাই করতে পারে?

আসুন জেনে নেওয়া যাক কিটো ডায়েট কি? কেন কিটো ডায়েট করতে হবে? আর কাদের জন্য প্রয়োজন?


কিটো ডায়েট কি?


কিটো ডায়েট বলতে এক কথা যা বুঝি আমরা তা হলো ফ্যাট দিয়ে ফ্যাট পোড়ানো।কিটো ডায়েট এর ফলে শরীর এর ফ্যাট থেকে উর্জার সৃষ্টি করে কিটোসিস প্রক্রিয়ায়। এই উর্জার এর ফলে লিভারে কিটোন এসিড তৈরী হয়।এটি শরীরের চর্বিকে গলাতে সহায়তা করে।

কিটো ডায়েট এর মুখ্য উদ্দেশ্য হলো কম কার্বোহাইড্রেট যুক্ত খাবার খাওয়া, বেশি বেশি ফ্যাট জাতীয় খাদ্য গ্রহণ, আর প্রোটিন থাকে এখানে মিড লেভেলে।কিটো ডায়েট এ দৈনিক কার্বোহাইড্রেট ৫%, প্রোটিন ২৫% আর ফ্যাট ৭০% পরিমাণে থাকে যা একটা সাধারণ মানুষের দৈনিক সুষম খাদ্য তালিকার খনিজ উপাদান এর পরিমাণ এর ঠিক উলটো।একজন সাধারণ কর্মক্ষম মানুষের দৈনিক কার্বোহাইড্রেট ৭০%,প্রোটিন ২৫% আর ফ্যাট ৩০% প্রয়োজন হয়।


কার্বোহাইড্রেট বা শর্করা শরীরে শক্তি জোগাবে আর প্রোটিন ও ফ্যাট ব্যালেন্স লেভেল ঠিক রাখে। কিন্তু কিটো ডায়েট এ তো কার্বোহাইড্রেট বা শর্করা কম তাহলে প্রশ্ন আসে কর্মক্ষমতা কোথা থেকে আসবে? আর তার আগে এটা জানা জরুরি কেন কিটো ডায়েট করতে হবে?

কিটো ডায়েট এর কারণ 

কিটো ডায়েট করার কারণ হচ্ছে ওজন কমানো কার্বোহাইড্রেট বা শর্করা শরীরে শক্তি জোগায় আর স্থূলকায় করে তোলে শরীর।সেজন্যই স্থূলকায় ব্যক্তির ওজন কমাতে কিটো ডায়েট প্রয়োজন আর এখানে ফ্যাট দিয়ে ফ্যাট কেই গলানো হয় ফলে কিটোন এসিড অন্যান্য বিক্রিয়ায় শরীরে শক্তি উৎপাদন করতে সক্ষম হয় কিন্তু ক্যালরির পরিমাণ কম থাকে।

কিটো ডায়েট সাধারণ স্থূলকায় আর কিছু ডায়াবেটিস রোগীদের নেওয়ার জন্য পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। সবার জন্য এই ডায়েট উপযুক্ত নয়।বিশেষ করে যাদের থাইরয়েড আছে তাদের জন্য তো একেবারেই নয়।

এখন ডায়াবেটিস রোগীদের যেহেতু স্যুগার এর পরিমাণ বেশি থাকে তাই তারা মিষ্টি, দুধ ও দুগ্ধ জাতীয় খাদ্য, বিশেষত চিনি এসব খাবার খেতে পারে না, এগুলোর বেশিরভাগ কার্বোহাইড্রেট এর উৎস।আর যেহেতু কিটো ডায়েটেও কার্বোহাইড্রেট এর পরিমাণ কম থাকে তাই তাদের জন্য এটা প্রযোজ্য হবে,কিছু কিছু রোগীদের ক্ষেত্রে যাদের ডায়াবেটিস এর সাথে উচ্চ রক্তচাপ, থাইরয়েড এসব সমস্যা নেই তাদের জন্য।কারণ কিটো ডায়েটে স্যুগার এর পরিমাণ একদম কম লেভেলে থাকে।



কিটো ডায়েটে কি কি খাওয়া যাবে আর কি কি খাওয়া যাবে না



কিটো ডায়েটে গম, চালের তৈরী কোনো জিনিস,পাউরুটি,রুটি,বিস্কুট এসব খাওয়া যাবে না।

কোনো প্রকার ডাল খাওয়া যাবে না, কারণ ডাল হাই প্রোটিনযুক্ত আর উচ্চ ক্যালরি সম্পন্ন আর কিটো ডায়েটে প্রোটিন মিড লেভেলে থাকতে হবে সেজন্য ডাল খাওয়া যাবে না।

শর্করা যেহেতু খুব সামান্য পরিমাণে থাকবে সেক্ষত্রে মাটির নিচে জন্মে এমন জাতীয় শর্করা যেমনঃ আলু,মিষ্টি আলু,কুমড়ো,মূলা,বিটরুট ইত্যাদি খাওয়া সম্পূর্ণ রূপে পরিহার করতে হবে।

চিনি,দুধ দিয়ে তৈরী কোনো কিছু খাওয়া যাবে না।

সাধারণ তেল যেমন সূর্যমুখী তেল,রাইস ব্যান অয়েল খাওয়া যাবে না,কারণ এগুলাতে কোলেস্টেরল এর পরিমাণ অতি উচ্চ মাত্রায় থাকে,যা রক্তে চর্বি জমাট বাঁধায়,রক্তনালিতে রক্ত চলাচলে বাঁধা পায়।

এই ডায়েটে এক্সট্রা ভার্জিন অয়েল বা জলপাই তেলে রান্না করা, ঘি দিয়ে রান্না করার কথা বলা হয়েছে,কারণ কোলেস্টেরল নাই বললেই চলে।

ডিম খাওয়া যাবে সর্বোচ্চ ৬টা, আরো মাছের ডিম খাওয়া যাবে এতে ওমেগা ৩ ফ্যাটি এসিড থাকে যা অত্যন্ত উপকারী।

ক্রীম,অর্গানিক বাটার,ঘি, খাওয়া যাবে।

প্রচুর পরিমাণে পানি পান করতে হবে আর লাল,সবুজ,হলুদ শাক ও সবজি খেতে হবে।

যেকোনো রকমের বাদাম খাওয়াতে কোনো প্রকার নিষেধাজ্ঞা নেই।কাজুবাদাম, চীনাবাদাম, পেস্তাবাদাম এসবই খাওয়া যাবে।

কিটো ডায়েট সেলিব্রেটিদের খুবই জনপ্রিয় একটা ডায়েট আর বাইরের দেশগুলোতে সবাই এখন এটা মেইন্টেইন করে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখছে।এটা করার সময় অবশ্যই স্ট্রেস ফ্রি থাকতে হবে।




Please follow and like us:

উপমা সাহানী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Next Post

বৃষ্টি ও ভালোবাসা

Thu Jun 11 , 2020
রৌদ্রের প্রখরতা পরে পৃথিবী এখন শান্ত। বর্ষার ঝিরিঝিরি বৃষ্টির দিন । সারাদিন বৃষ্টি প্রকৃতির চারিপাশ। বর্ষার আগমনে যেন কোলা ব্যাঙ গৃহ ত্যাগের বাসনা করে বৃষ্টিতে ভিজবে বলে। বর্ষার ঝিরিঝিরি বৃষ্টির মত মনো ও আজ বৃষ্টিতে ভিজেছে। এখন হৃদয় গোলাপের পাপড়ির মত প্রস্ফুটিত ও উন্মত্ত। প্রচন্ড বৃষ্টির ফোঁটা টিনের চালেএকটি সুরের […]