colorgeo.com

Disaster and Earth Science

কিভাবে মানুষের নাম ও চেহারা মনে রাখবেন?


পথে চলতে চলতে হঠাৎ আপনার এক পরিচিত মানুষকে দেখতে পেলেন, কিন্তু তার নামটা ঠিক মনে করতে পারছেন না! লোকটি যত আপনার কাছে চলে আসছে ততই আপনি বিব্রত হচ্ছেন! কেন নামটি মনে করতে পারছিনা! হঠাৎ কাছে এসে যখন সম্মোধন করে কথা বলতে শুরু করে আপনি তখন নাম ছাড়াই তাকে সম্বোধন করেন। কথাবার্তা একটু চালিয়ে যাওয়ার পর যখন শেষ হয় তখন নিজের মনেই একটু নিজেকে বিব্রত বোধ হয়। কেন নামটা মনে করতে পারলাম না? শুরুতেই নাম ধরে কথোপকথনটি চালিয়ে গেলে কতই না মধুর হত! এই পরিস্থিতিতে যদি কোন বিপরীত লিঙ্গের মানুষের সাথে কথোপকথন হয় তাহলেতো বিব্রতকর পরিস্থিতি একেবারেই চরম পর্যায়ে। এই পরিস্থিতিতে কীভাবে কোন মানুষের নাম মনে রাখতে পারবেন সেই ছোট্ট টিপসটি আজকে শেয়ার করব।

প্রথমে পদ্ধতি

পরিচিত মানুষের সাথে প্রথম পরিচয় হওয়ার স্থান। সেই স্থানটিকে মনে করতে পারেন, কোথায় দেখা হয়েছিল? মানুষটির সাথে সেই স্থানকে আপনি স্মরণ করতে পারলে মানুষটির নাম টাও ধীরে ধীরে আপনার স্মরণে চলে আসবে। হয়তো নামটি প্রথমে আপনাকে একবার বলেছিল ঠিক যে স্থান থেকে আপনাদের পরিচয় হয়েছিল সেই স্থানে নাম কি বলেছিল তাই নির্দিষ্ট কোন স্থানের সাথে সেই নামের একটি সম্পর্ক থাকে। হতে পারে এমন কোনো পরিস্থিতি। কথোপকথন চালিয়ে যাবার সময় ত্রিশ সেকেন্ড পরে আবার যদি জিজ্ঞেস করা হয় আপনার নামটা যেন কি আরেকবার একটু বলবেন কি? এই ধরনের বিব্রতকর পরিস্থিতি আমরা মোকাবেলা করি এসব ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট স্থানে কথোপকথনের প্রেক্ষাপট চিন্তা করলে বন্ধুর নাম মনে করতে পারবেন। এটা একটি মস্তিষ্কের স্নায়ুবিক প্রক্রিয়া অর্থাৎ আমাদের মস্তিষ্ক কতগুলো নিউরনের সংযুক্ত হয়ে একটির সাথে আরেকটি ঘটনার বিষয়ে সমস্ত প্রক্রিয়াটি পুনরুদ্ধার করে দিতে পারে অর্থাৎ কোন স্থান আপনার মনে পড়লে সেই স্থানে ঘটে যাওয়া ঘটনাটা পর্যায়ক্রমে নামটিও আপনার মনে আসতে পারে।

দ্বিতীয় পদ্ধতি

কোন মানুষের মুখমন্ডলের সাথে আপনার পরিচিত কোন জিনিস বা বস্তুর সমন্বয় ঘটানো। সাহায্যকারী হিসেবে একটা কিছুকে সংযুক্ত করা যদি কোন বন্ধুর নাক একটু বাঁকা হয় অর্থাৎ পাখির ঠোঁটের মতো বাঁকানো থাকে তখন ওই বন্ধুর সাথে পরিচিত হবার সময় বন্ধুর নামটা কে একটি পাখির ঠোঁটের সাথে তুলনা করে রাখা যায় তখন সহজেই আপনার বন্ধুটির নামটি মনে পড়বে যদি এমন হয় আপনার বন্ধুটির নাম কোন ফুল পাখি নদী পাহাড় অথবা কোন বিখ্যাত ব্যক্তি বা কোন প্রাণীর নামের সাথে মিশে যায়, যেমন হতে পারে পাপড়ি খাতুন, তখন নির্দিষ্ট মেয়েটির ঠোট দুটো ফুলের পাপড়ির মত কিনা লক্ষ্য করে তার নামের সাথে সংযুক্ত করে রাখা যায়। এভাবে বিভিন্ন বস্তু বা ঘটনার সাথে কোন মানুষের মুখমণ্ডল এর একটি সম্পর্ক স্থাপন করে নামটাকে পরবর্তীতে স্মরণ করা যায়। যদি কখনো এমন হয় যে কোন বস্তু বা অন্য যেকোনো কিছুর সাথেই সম্পর্ক স্থাপন করা সম্ভব নয় তখন নামের অর্থের সাথে তার মুখমন্ডল এর কোন সম্পর্ক আছে কিনা, না থাকলেও কোনো একটা সম্পর্ক বের করে নিতে হবে। যেটা অনেক বেশি সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়, যেমন তার নাম যদি শঙ্কর বনিক হয় তখন সে কোন ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের মানুষ হতে পারে কিনা তার মুখমন্ডলে সেরকম বণিক সম্প্রদায় পরিচিত কোন মানুষের সাথে সম্পর্কিত করা যেতে পারে। এভাবে ভাবতে হবে যে, আমার আরো একটি বন্ধু আছে, নিখিল বণিক এবং এই শঙ্কর বনিক, একই গোত্রের, এভাবে নিজের পরিচিত নিখিল বণিকের কথা মনে পড়লেই এই শংকর বণিকের নাম সহজেই চলে আসবে। অল্প সময়ে পরিচিত কোন মানুষের নাম সারা জীবন মনে রাখার জন্য এই ধরনের কিছু কৌশল মনে রাখা দরকার। এটা আপনার অভ্যাসে পরিণত হবে এবং সহজেই কোন মানুষকে আপনি স্মরণ করতে পারবেন।

যদিও প্রত্যেকটি মানুষের স্মৃতি শক্তির একটি সীমা থাকে কেউ প্রখর মেধা নিয়ে জন্মগ্রহণ করে, কেউ অভ্যাসের দ্বারা তাদের মেধা শক্তিকে কাজে লাগায়। তাই যাদের স্মৃতিশক্তি কম থাকে তারা এই ধরনের কৌশলগুলো অবলম্বন করতে পারেন। স্মৃতিশক্তির রকমভেদ রয়েছে। স্বল্পমেয়াদী স্মরণশক্তি ও দীর্ঘমেয়াদী। স্বল্পমেয়াদী শক্তিতে অল্প সময়ের জন্য অনেক বিষয় মনে রাখা সম্ভব। যাদের দীর্ঘমেয়াদি শক্তি থাকে তাদের কোনো একটি ঘটনা দীর্ঘকাল যাবত স্মরণে থাকে। অভ্যাসের দ্বারা মানুষ পারেনা এমন কোন কর্ম নেই। স্মৃতিশক্তি বাড়াতে হলে এই ধরনের কৌশল অবলম্বন করলে অনেক বেশী ফলদায়ক হয়।

Please follow and like us:

%d bloggers like this: