তাজমহলে ব্যবহৃত মূল্যবান খনিজের রহস্য উন্মোচন

‘বহুদিন একভাবে শুয়ে আছো, ভারতসম্রাট।

আওরঙ্গজেবের ঘোড়া মারা গেছে, মারা যেতে হয়।
এখন নিশ্বাস নিতে পারো তুমি, নির্বিঘ্ন প্রহর
পরষ্পর কথা বলো, স্পর্শ করো, ডাকো প্রিয়তমা!
সর্বান্তঃকরণ প্রেম সমস্ত ধ্বংসের পরও পৃথিবীতে ঠিক রয়ে যায়।
ঠিকমতো গাঁথা হলে ভালোবাসা স্থির শিল্পকলা’

কবি পুর্ণেন্দুশেখর পত্রী এর মতো বহু কবি এবং লেখক তাজমহল সম্পর্কে লিখে গেছেন এবং ভবিষ্যতেও লিখবেন। অনেকে ভালোবেসে এই তাজমহলকে প্রেমের তাজমহলও নামকরণ করেছে।
ইতিহাসের পাতায় থেকে জানা সম্রাট শাজাহানের স্ত্রীসমূহের মধ্যে ৩নং স্ত্রী মমতাজকে ভালোবাসার প্রতীক হিসাবে তাজমহল নির্মাণ করেছিলেন।
তাই তাজমহল যে প্রেমের প্রতীক তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। কিন্তু তারপরও মনে প্রশ্ন জাগে বিশ্ববিখ্যাত এই তাজমহলকে কেন সপ্তম আশ্চর্যের একটি বলে ধরা হয় কেনো?
এই প্রশ্নের উত্তরে বহু কারণ উল্লেখ করেছে প্রায় ২৫+ টির বেশী কারণ আছে।
তার মধ্যে যদি কেউ প্রধান তিনটি কারণকে প্রাধন্য দেয় তাহলে তিনটি সম্ভবত এমন হবে,
১. ইতিহাস
২. আর্কিটেকচার
৩. কন্সট্রাকশন ম্যাটেরিয়ালস।
এখন এই কন্সট্রাকশন ম্যাটেরিয়ালসের ব্যবহৃত খনিজ পাথর নিয়েই কিছু কথা বলবো। আমাদের সবারই মোটামুটি জানা তাজমহলে প্রায় ২৮ ধরনের মূল্যবান পাথর ব্যবহৃত হয়েছে। (তথ্যসূত্র উইকিপিডিয়া)
কিন্তু Henry Wesley Voysey বলেন এই তাজমহল তৈরীতে ভারতসহ প্রায় ১৬ টির অধিক দেশ হতে আনীত ৪০ ধরনের মূল্যবান ব্যবহৃত হয়েছে। এখন প্রশ্ন হলো কে এই Henry Wesley Voysey? ইনিই সেই ব্যক্তি যিনি সর্বপ্রথম ১৮২৫ সালে প্রকাশ করেছিলেন তাজমহলে কি কি পাথর ব্যবহৃত হয়েছিলো। তিনি ছিলো ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীতে কর্মরত একজন পদার্থবিদ, জিওলজিস্ট এবং মিনেরোলজিস্ট। তারপর Moin-Ud-din Ahmed (1905), Dayalan (2006) এবং Dona Mary Dirlam, Chris L. Rogers, Robert (2019) প্রভৃতি লেখকগণ উল্লেখ করেন।

চলেন একনজরে জেনে নেই কোন কোন মূল্যবান পাথর ব্যবহৃত হয়েছিলো এবং কোথায় থেকে সেগুলো সংগ্রহ করা হয়েছিলোঃ
1⃣. Rose or pink sapphire (গোলাপী নীলকান্তমনি) ⏩ Ceylon, Sri Lanka
2⃣. Bloodstone (*গাঢ় নীল পাথর) ⏩ India
3⃣. Alabaster or White Marble(শ্বেত মার্বেল)
⏩Makrana, India
[এটিই সবচেয়ে আকর্ষিণীয় পাথর যা তাজমহলকে অন্যরকম রূপ দান করেছে, এটি Makrana, Rajsthan, India থেকে সংগ্রহীত করা হয়েছিলো। Makrana শহরে এই পাথরের খনির জন্য সাড়া বিশ্বে খুবই পরিচিত তাই এই শহরকে City of Marble বলা হয় আবার এই পাথরের অন্য এক নাম Makrana Marble.]4⃣. Amethyst (নীলা) ⏩ Moldova, India
5⃣. Aquamarine (নীলাভ সবুজ পান্না)
⏩ Bihar, India & Ceylon, Sri Lanka
6⃣. Black marble (কালো মার্বেল) ⏩ Jhari, India
7⃣. Carnelian (আকিক পাথর) ⏩ Baghdad or Yemen
8⃣. Chalcedony (ইয়ামেনী) ⏩ India
9⃣. Chrysolite (মণি) ⏩ Nile River, Africa
🔟. Conch shell (শাঁখ বা শঙ্খ) ⏩ Persian Gulf & Gulf of Mannar
1⃣1⃣. Coral, red (প্রবাল) ⏩ Indian Ocean
1⃣2⃣. Crystal quartz (কোয়ার্টজ) ⏩ Hyderabad, India
1⃣3⃣. Diamond (হীরা) ⏩ Golconda region
1⃣4⃣. Emerald (পান্না) ⏩ South America & Egypt
1⃣5⃣. Garnet (তামড়ি) ⏩ Ganges River
1⃣6⃣. Golden stone (স্বর্ণ পাথর) ⏩❔❓
1⃣7⃣. Hessonite garnet (গোমেদ পাথর) ⏩ Ceylon, Sri Lanka
1⃣8⃣. Jasper (ইয়াশম) ⏩ Cambay, India
1⃣9⃣. Lapis lazuli (নীলকান্তমণি জাতীয়) ⏩ Afghanistan
2⃣0⃣. Lodestone (চুম্বক) ⏩ Gwalior, India
2⃣1⃣. Malachite (ম্যালাকাইট) ⏩ Russia
2⃣2⃣. Marble (মার্বেল) ⏩ Jaipur, India
2⃣3⃣. Mother-of-pearl ( মুক্তা বা মতি) ⏩ Persian Gulf & Gulf of Mannar
2⃣4⃣. Nephrite (ইয়াশব) ⏩ Chinese Turkestan
2⃣5⃣. Onyx ( সোলেয়মানী) ⏩ Deccan Plateau, India
2⃣6⃣. Pearl (মুক্তা বা মতি) ⏩ Persian Gulf & Gulf of Persian
2⃣7⃣. Redstone (লাল পাথর) ⏩ Gwalior, India
2⃣8⃣. Ruby (রুবি বা মাণিক) ⏩ Myanmar & Afghanistan
2⃣9⃣. Sandstone (বেলেপাথর) ⏩ India
3⃣0⃣. Sapphire (নীলকান্তমণি) ⏩ Myanmar & Sri Lanka
3⃣1⃣. Sard (*লাল ও হলুদ ইয়ামেনী) ⏩ India
3⃣2⃣. Slate (স্লেট) ⏩ Monghir & the ruins of Gaur, West Bengal
3⃣3⃣. Sodalite (সোডালাইট) ⏩ Afghanistan
3⃣4⃣. Spinel ( চুনি) ⏩ Badakhshan, Afghanistan
3⃣5⃣. Tiger’s-eye (*মণিমানিক্য বা মণিকাঞ্চন বা টাইগার স্টোন) ⏩ India
3⃣6⃣. Topaz (টপায) ⏩ Ceylon, Sri Lanka
3⃣7⃣. Turquoise (ফিরোজা) ⏩ Persia & Tibet [বাকী ৩ টি আমার জানা নেই

এই মূল্যবান খনিজ পাথর গুলোকে আবার ৩ টি ভাগে করেছে অনেকে যেমন 1⃣. Semi-precious stone: Aqiq, Yemeni, turquoise, Lapis- lazuli; coral, onyx, tiger’s eye, Yasheb and blood stone জাতীয়।
2⃣. Rare or uncommon stone: goldstone, Lodestone, Black Marble জাতীয়।
3⃣. Common stone: Sandstone, Redstone, White Marble জাতীয়।

পৃথিবীর প্রায় সকল বড় বড় স্থাপনা খনিজ সম্পদ দিয়েই তৈরী। আর্কিটেকচারের পরপরই ওইসব স্থাপনার নির্ণামে খনিজের ভুমিকা আলোচনা আসে।

পরিশেষে বলতে চাই, তাজমহল নির্মাণের এমন দৃষ্টিনন্দন খনিজের ব্যবহারের কারণেই হয়তো কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তার শা-জাহান কবিতায় বলেছেনঃ-

‘হীরামুক্তামানিক্যের ঘটা
যেন শুন্য দিগন্তের ইন্দ্রজাল ইন্দ্রধনুচ্ছটা
যায় যদি লুপ্ত হয়ে যাক,
শুধু থাক
একবিন্দু নয়নের জল
কালের কপোলতলে শুভ্র সমজ্জ্বল
এ তাজমহল।।’

মোঃ হাবিবুল্লাহ
বিএসসি ইন মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং,
চায়না ইউনিভার্সিটি অব মাইনিং এন্ড টেকনোলজি।

তাজমহলে ব্যবহৃত খনিজসমূহ সংগ্রহের স্থানসমূহ (ছবি: Madhulikaliddle.com)
Please follow and like us:

Md. Habibullah

B.Sc in Mining Engineering, China University of Mining & Technology.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Next Post

মায়ার বাঁধন-চিত্রকর্ম

Sun Sep 6 , 2020
চিত্রশিল্পী: মোঃ তানভীর আকরাম ——————————— চিত্রকর্ম শুধু একবার বলো মায়ার বাঁধন ছেড়ে কোথাও যাবেনা। তোমার বুকে মাথা রেখে মরতে চায় । এই ইচ্ছাটুকু পূরন করিও আমি কখনই ভালোবাসার কমতি রাখবোনা।   Please follow and like us: Post Views: 410
citro