colorgeo.com

Disaster and Earth Science

বন্যা কি? কেন হয়? বন্যা প্রতিকার ও প্রতিরোধে করণীয়?

Flood

বন্যা কি? কেন হয়? বন্যা প্রতিকার ও প্রতিরোধে করণীয়? ষড়ঋতুর দেশ বাংলাদেশ।গ্রীষ্ম,বর্ষা,শীত সচারচর আমাদের নজরে পরে।গ্রীষ্মের প্রখরতা,শীতের কাপুনি হাড়ে হাড়ে টের পাওয়ার মতো।তদানুরূপ বর্ষায় বন্যার বৈরি প্রকৃতিও আমাদের মাথা নত করে মেনে নিতে হয়।বর্ষা মৌসুমে সাধারণত জুন থেকে সেপ্টেম্বরে প্রতিবছরেই বাংলাদেশে কোন না কোন অঞ্চল বন্যায় প্লাবিত হয়।তন্মধ্যে ১৯৬৬,১৯৮৮,১৯৯৮,২০০৭,২০২২ সালের বন্যা স্মরণ কালের শ্রেষ্ঠ বন্যা বাংলাদেশের ইতিহাসে।বর্তমান সময়ে সিলেটের বন্যার পরিস্থিতি এতোটাই ভয়াবহ যে,ধারণা করা হচ্ছে জেলার মানুষ ও বন্যার পানিতে প্লাবিত হতে পারে এবং পরিস্থিতি সেটাই ইঙ্গিত করছে।বন্যার ভয়াবহতা এবং বন্যায় এতো এতো জনজীবনের দূর্ভোগ আমাদের একটি জিনিশ চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়,বন্যা সম্পর্কে আমাদের ধারণা স্বল্প,বন্যা প্রতিকারে আমরা নাস্তানাবুদ এবং বন্যা প্রতিরোধে নুন্যতম সচেতনতা ও যুগোপযোগী পরিকল্পনা আমাদের নেই।

 

বন্যা :  সাধারণত বন্যা বলতে আমরা বুঝি, কোন অঞ্চল বৃষ্টির পানিতে প্লাবিত হওয়াকে।শুধুমাত্র বৃষ্টির পানি যে বন্যার সৃষ্টি করে সেটা তা কিন্তু নয়।প্রযুক্তির অবদানে আমরা এখন অনেক এ্যাডভান্স এক জাতি।স্বচোখে আমরা বন্যা হওয়ার অনেক কারণ দেখতে পারি এছাড়াও প্রাকৃতিক কিছু কারণ বন্যা পরিস্থিতি তৈরিতে সহযোগিতা করে থাকে।পরবর্তীতে যা প্রাণঘাতী দূর্যোগ এবং দূর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।বিশেষজ্ঞগণ বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টির পেছনে বেশ কিছু কারণ দাড় করেছেন,

 

১.অপরিকল্পিত নগারায়ন।

২. অপরিকল্পিতভাবে কল কারখানা গড়ে তোলা।

৩. পুকুর ভড়াট করা।

৪. নদীর পাড়ে বাঁধ।

৫. বর্জ্য নিষ্কাশনে অব্যাবস্থাপনা ইত্যাদি

৬। নদীর তলদেশে পলি জমে নদীর গভীরতা কমে যাওয়া

অপরিকল্পিত নগরায়ন : বিপুল জনসংখ্যার ফলে অন্তত দ্রুত গতিতে নগরায়ন হয়ে চলেছে আমাদের চোখের পলকে।আজ থেকে ১০ বছর আগে যে অঞ্চলে দু একটা কুড়ে ঘড় দেখা যেত বর্তমানে সেইহানে উঁচু উঁচু দালান কোঠা,হাট-বাজার,শপিং মল।সময়ের স্বল্প ব্যবধানে গড়ে উঠা এসব দালান কোঠার অধিকাংশই অপরিকল্পিত। অপরিকল্পিতভাবে গড়ে উঠা এসব নগরায়নের ফলে নগরে বন্যার পানি নিষ্কাশনের পথই খুঁজে পাওয়া দুঃসাধ্য।

 

অপরিকল্পিতভাবে গড়ে উঠা কলকারখানা : নদীর তীরে অপরিকল্পিতভাবে গড়ে উঠা কলকারখানার বর্জ্য নদীর তল নিয়মিত ভরাট করে চলেছে।ফলাফল নদ-নদীর আকার ক্রমশ ছোট হয়ে আসা,নদীর প্রবাহ কমে আসা,অতিরিক্ত পানি ধারণ ক্ষমতা হারানো,নদীর পানি দূষণ ন্যায় নানাবিধ সমস্যা।ইহা বন্যা সৃষ্টির পথকে সুগম করে।

 

পুকুর ভড়াট : পুকুর ভড়াটের ফলে  নগরের অতিরিক্ত পানি অপসারনের আরেকটি পথ বন্ধ হয়ে যায়।নিচু অঞ্চলের ঘড় বাড়ি প্লাবিত হয় অল্পতেই।

 

নদীর পাড়ে বাঁধ : বর্ষা মৌসুমে প্রায় সব নদীই প্রাণ ফিরে পায়। বর্ষার পানিতে নদীগুলো ফুলে ফেপে উঠে।নদীর পাড়েও বাঁধ ঠিক মতো দেওয়া না থাকলে সেই প্রবাহিত পানি নগর অঞ্চলে ঢুকে বন্যার মতো প্রাকৃতিক দূর্যোগ সৃষ্টি করে।

এছাড়াও বর্জ্য নিষ্কাশনে অব্যবস্থাপনা বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টিতে মুখ্য আরেকটি ভূমিকা পালন করে।সঠিক ড্রেনেজ ব্যাবস্থাপনা থাকলে পানি বের হয়ে যাওয়ার পথ থাকে কিন্তু সেটা যদি না থাকে বন্যা থেকে প্রতিকার পাওয়া দুসাধ্য ব্যাপার হয়ে উঠে।

৬। নদীর তলদেশে পলি জমে নদীর গভীরতা কমে যাওয়াঃ  উজান থেকে প্রচুর পলি মাটি  সমৃদ্ধ পানি বাংলাদেশের ভিতর দিয়ে প্রবাহিত হবার সময় বাংলাদেশের নদী গুলো দিন দিন ভরাট হয়ে যায়। নদীর গভীরতা কমে যায় যার কারণে অতি বন্যা হলে নিদই গুলো বেশি পানি ধরে রাখতে পারে না। তাই ভারত থেকে যে সব পানি আসে বাংলাদেশের বেশিরভাগ সময় বন্যা স্মৃতি হয়। 

বন্যা প্রতিকার ও প্রতিরোধে করণীয় : বন্যা প্রতিরোধের তুলনায় প্রতিকার করা কঠিন।বন্যা প্রতিরোধে আমাদের একটু সচেতনতা এবং পদক্ষেক নিলেই অনেকাংশে বন্যা প্রতিরোধ করা সম্ভব।কিন্তু বন্যায় দূর্ভোগ পোহানো মানুষদের এ থেকে প্রতিকার পেতে অনেক প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যেতে হয়।

 

বন্যা প্রতিরোধ : বন্যা প্রতিরোধে আমাদের সচেতনতা পারে অনেকাংশে আমাদের দূর্ভোগ কম করতে।অপরিকল্পিত নগরায়ন, কলকারখানা তৈরি বন্ধ করতে হবে আমাদের।নদী আমাদের সম্পদ,বন্যার দূর্ভোগ কমাতে প্রয়োজন নদীকে কম দূষণ করা।আমাদের উচিত ড্রেনেজ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা।প্রকৃতিকে বাঁচিয়ে রাখতে পরিবেশের সুরক্ষা করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।পুকুর খেলার মাঠ ভড়াট না করে ভূমির সঠিক ব্যবহার করা আমাদের উচিৎ। পরিকল্পিত ভাবে নগরায়ন করা বাঞ্চনিয়।অন্যথায় বন্যা প্রতিরোধ করা অসম্ভব।

 

বন্যা প্রতিকার : বন্যা প্রতিকার করা একটি চ্যালেঞ্জিং বিষয়।বন্যায় দূ্র্ভগ পোহানো মানুষেরাই জানে কতটা নিদারুণভাবে তারা রাত কাটায়।রান্না-বান্না,চলা-ফেরা,পায়খানা-প্রসাব সবটাই কষ্ট সাধ্য।অনেক পরিবার না খেয়ে না দেয়ে দিন পার করে বন্যার পানিতে আটকে থাকে।গৃহপালিত পশুপাখি নিয়ে হাহাকারের শেষ যেন নেই।ফসলের ক্ষেত পানিতে ডুবে কৃষকের সারাবছরের পরিশ্রম নিমজ্জিত হয়ে যায় বন্যার পানিতে। এ থেকে পরিত্রাণের পথ অত্যন্ত কঠিন।বন্যা চলাকালিন ঘড়েই অবস্থান করা উচিৎ।সরকার এবং অন্যান্যদের উচিৎ সর্বাপেক্ষা যারা দরিদ্র তাদের পাশে দাঁড়ানো।শুকনা খাবার,কাপড়, প্র‍য়জনীয় সামগ্রী দিয়ে বন্যার্তদের যথাসাধ্য সাহায্যে সকলকেই এগিয়ে আশা উচিৎ যতদিন না বন্যা পরিস্থিতি শিথিল হয়।

 

এরপর আশে বন্যার পানি নেমে গেলে আরও এক পরিচিত সমস্যা।সাধারণত বন্যা শেষে পানি বাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব বেড়ে যায়। তা থেকে পরিত্রাণ পেতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

Please follow and like us:

%d bloggers like this: