Gandhi 7 Social Sins

গান্ধীজির অপকর্ম প্রকাশ গান্ধী-মিথ ভাঙলেন যিনি

Spread the love

অলোককৃষ্ণ চক্রবর্তী সম্পাদিত ও রচিত ‘গান্ধীজির অপকর্ম’ বইটির ভূমিকা এবং বিভিন্ন অধ্যায়ের প্রেক্ষিতে মহাত্মা গান্ধীর বিরুদ্ধে লেখক যে সমস্ত অভিযোগ বা তথাকথিত “অপকর্ম”-এর বিবরণ তুলে ধরেছেন, তা নিচে বিস্তারিতভাবে দেওয়া হলো:

১. দেশভাগের মূল কারিগর ও রাজনৈতিক মিথ্যাচার (ধাপ্পাবাজি)

  • লেখক অভিযোগ করেছেন যে গান্ধীজি দেশভাগের প্রায় তিন বছর আগে জিন্নার মালাবার হিলের বাড়িতে এক গোপন বৈঠকে পাকিস্তান মেনে নেন এবং ভারতের অখণ্ডতা শেষ করেন।
  • প্রকাশ্যে গান্ধীজি ঘোষণা করেছিলেন, “দেশভাগ হলে আমার মৃতদেহের উপর দিয়ে হবে। আমি জীবিত থাকতে দেশভাগে রাজি হব না।” কিন্তু ১৯৪৭ সালের ১৫ জুন কংগ্রেস অধিবেশনে দেশভাগের প্রস্তাব উত্থাপিত হলে তিনি কোনো প্রতিবাদ না করে তা প্রথমেই সমর্থন করেন। লেখক একে গান্ধীজির জীবনের “সবচেয়ে বড় ধাপ্পা” ও “মিথ্যাচার” বলে আখ্যা দিয়েছেন।
  • লেখকের মতে, গান্ধীজি ও নেহরু মূলত নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর জনপ্রিয়তার ভয়ে এবং নিজেদের একনম্বর নেতৃত্ব ও ক্ষমতা ধরে রাখার স্বার্থে চক্রান্ত করে দেশভাগ করেছিলেন।

২. বিকৃত যৌনাচার ও ব্রহ্মচর্যের নামে নোংরামি

  • বইটিতে বলা হয়েছে যে গান্ধীজি নিজে উলঙ্গ হয়ে সুন্দরী যুবতীদের সঙ্গে একই বিছানায় রাত্রিযাপন করতেন, যাকে তিনি “ব্রহ্মচর্যের পরীক্ষা” বলতেন। লেখক একে “বিকৃত যৌনাচার” ও “নোংরামি” বলে উল্লেখ করেছেন।
  • গান্ধীজি নিজের রক্তের সম্পর্কের নাতনি মনু গান্ধীর সঙ্গেও এই আচরণ করেছিলেন। এই নোংরামি সহ্য করতে না পেরে তাঁর একান্ত অনুগত স্টেনোগ্রাফার পরশুরাম তাঁকে ছেড়ে চলে যান।
  • বল্লভভাই প্যাটেল এবং বিনোবা ভাবেও গান্ধীজির এই পরীক্ষার তীব্র সমালোচনা করেছিলেন। অধ্যাপক নির্মল বসুর অভিযোগ অনুসারে, গান্ধীজির এই আচরণের ফলে ওই মেয়েরা মানসিক রোগে আক্রান্ত হতো এবং মূর্ছা যেত।

৩. নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর প্রতি হিংসা ও চক্রান্ত

  • ১৯৩৯ সালের ত্রিপুরি কংগ্রেস নির্বাচনে গান্ধীজির মনোনীত প্রার্থী পট্টভি সীতারামাইয়াকে হারিয়ে সুভাষচন্দ্র বসু সভাপতি নির্বাচিত হন। এতে গান্ধীজি ক্ষুব্ধ হয়ে বলেন, “পট্টভি সীতারামাইয়ার পরাজয় মানে আমার পরাজয়”
  • লেখক অভিযোগ করেন, অহিংসার মুখোশধারী গান্ধীজি হিংসার অনলে জ্বলে ভারতের শ্রেষ্ঠ দেশপ্রেমিক নেতাজিকে চক্রান্ত করে কংগ্রেস থেকে বহিষ্কার করেন এবং তাঁর একনম্বর নেতৃত্ব সুরক্ষিত করেন।
  • ১৯২৮ সালের কলকাতা কংগ্রেসে সুভাষচন্দ্রের স্বেচ্ছাসেবক বাহিনীর শৃঙ্খলা ও দেশপ্রেমের প্রশংসা সবাই করলেও গান্ধীজি তা সহ্য করতে না পেরে কটাক্ষ করে বলেছিলেন, “এ হল পার্কসার্কাসের সার্কাস”

৪. ব্রিটিশের চর ও স্বাধীনতা আন্দোলন ব্যাহত করা

  • লেখক স্পষ্ট ভাষায় দাবি করেছেন যে গান্ধীজি ছিলেন “ব্রিটিশের চর” এবং অহিংসা ছিল তাঁর রাজনৈতিক মুখোশ।
  • ব্রিটিশরা জানত, যতক্ষণ গান্ধীজি কংগ্রেসে আছেন, ততক্ষণ তাদের বড় কোনো ভয়ের কারণ নেই, কারণ গান্ধীজি যেকোনো গণ-আন্দোলন সহিংস রূপ নিলেই তা বন্ধ করে দিতেন (যেমন—চৌরিচৌরা ঘটনা, মোপলা বিদ্রোহের পর আন্দোলন প্রত্যাহার)।
  • লেনিনের উদ্ধৃতি দিয়ে বইটিতে বলা হয়েছে, গান্ধীজির অহিংসানীতি মূলত বুর্জোয়াদের সম্পত্তি রক্ষা এবং জনসাধারণের বৈপ্লবিক সংগ্রামের রাশ টানিয়া ধরার একটি চক্রান্ত ছিল। ব্রিটিশরা লোকদেখানোভাবে গান্ধীজিকে মাঝে মাঝে জেলে পুরত যাতে জনগণের কাছে তাঁর ভাবমূর্তি ঠিক থাকে।

৫. বিপ্লবীদের “সন্ত্রাসবাদী গুণ্ডা” আখ্যা দেওয়া এবং ফাঁসি সমর্থন

  • দেশের মুক্তির জন্য যারা প্রাণ উৎসর্গ করেছেন (যেমন—ক্ষুদিরাম, প্রফুল্ল চাকী, মাস্টারদা সূর্য সেন, ভগৎ সিং, রাজগুরু, শুকদেব), গান্ধীজির অভিধানে তারা ছিলেন “সন্ত্রাসবাদী গুণ্ডা”।
  • গান্ধী-आरউইন চুক্তির সময় ভগৎ সিং, রাজগুরু ও শুকদেবের প্রাণদণ্ড রোধের জন্য গান্ধীজি কোনো শক্ত দাবি জানাননি, যার ফলে তাঁদের ফাঁসি হয়ে যায়।
  • পেশোয়ারে যখন গাড়োয়ালী হিন্দু সৈন্যরা বিদ্রোহী মুসলিম জনতার ওপর গুলি চালাতে অস্বীকার করে রাইফেল তুলে দেয়, তখন গান্ধীজি হিন্দু-মুসলমানের এই সংগ্রামী ঐক্যকে ধিক্কার জানান এবং সৈন্যদের শাস্তি দেওয়াকে “উচিত শাস্তি” বলে সমর্থন করেন।
  • লাহোর ষড়যন্ত্র মামলায় ৬৩ দিন অনশন করে শহিদ যতীন দাসের মৃত্যুর পর গান্ধীজি নীরব ছিলেন এবং পরে একে “ইচ্ছাকৃত আত্মহত্যা” বলে অবিহিত করেন।

৬. কপট দরিদ্রের জীবনযাপন ও ব্যয়বহুল সাদাসিধে ভাব

  • গান্ধীজি নিজেকে দরিদ্র ভারতের প্রতিনিধি হিসেবে তুলে ধরতে সস্তার ধুতি ও এক চিলতে চাদর পরলেও তাঁর জীবনযাত্রা ও খাদ্য তালিকা ছিল অত্যন্ত ব্যয়বহুল।
  • তাঁর দৈনিক খাদ্য তালিকায় থাকত আখরোট, বাদাম, মুসাম্বি বা লেবুর রস, ডাবের জল, খেজুর এবং প্রতিদিন অন্তত তিন সের ছাগলের দুধ (যার প্রতি সেরের দাম তৎকালীন সময়ে ৩ টাকা পর্যন্ত বাড়ত)। এছাড়া তিনি ঘি দিয়ে পা মালিশ করাতেন।
  • তাঁর এই ব্যয়বহুল জীবন দেখে সরোজিনী নাইডু মন্তব্য করেছিলেন, “বাপু, আপনাকে দারিদ্র্যের মধ্যে রাখতে অনেক অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে।”

৭. মণীষীদের প্রতি জঘন্য উক্তি

  • ১৯২১ সালে উড়িষ্যার এক জনসভায় গান্ধীজি আধুনিক ভারতের সমাজ সংস্কারক রাজা রামমোহন রায়কে ইংরেজি শেখার কারণে একজন ‘বামন’ (Pygmy) বলে কটূক্তি করেন, যার বিরুদ্ধে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন।
  • সুভাষচন্দ্র বসু সম্পর্কে দীনবন্ধু এন্ড্রুজকে লেখা চিঠিতে গান্ধীজি মন্তব্য করেছিলেন, “Subhas is behaving like a spoilt child” (সুভাষ একটা বকাটে ছেলে)।

৮. স্বৈরাচারী বা ডিক্টেটর মানসিকতা ও কুসংস্কার ছড়ানো

  • কংগ্রেসে গান্ধীজি ফ্যাসিস্ত মুসোলিনি, হিটলার বা স্ট্যালিনের মতো একনায়কতন্ত্র চালাতেন। নিজের মতাদর্শ চাপানোর জন্য তিনি প্রায়ই ‘কংগ্রেস ত্যাগ’ বা ‘আমৃত্যু অনশন’-এর রাজনৈতিক ব্ল্যাকমেইল বা ভয় দেখাতেন। তিনি প্রকাশ্যে ইতালির ডিক্টেটর মুসোলিনির প্রশংসাও করেছিলেন।
  • ১৯৩৪ সালের বিহারের ভয়াবহ ভূমিকম্পে যখন ২০ হাজার মানুষ মারা যায়, গান্ধীজি তখন অবৈজ্ঞানিক ও কুসংস্কারাচ্ছন্ন মন্তব্য করে বসেন যে—বিহারবাসীর “অস্পৃশ্যতার পাপের” জন্যই ভগবান এই শাস্তি দিয়েছেন। রবীন্দ্রনাথ এই মন্তব্যেরও তীব্র নিন্দা করেন।

৯. যৌবনের কলুষিত জীবন ও চুরি (গান্ধীজির নিজস্ব স্বীকারোক্তি)

  • গান্ধীজির আত্মজীবনীর প্রথম শতবার্ষিকী সংস্করণের সূত্র ধরে বইটিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, যৌবনে গান্ধীজি একাধিকবার পতিতালয়ে গিয়েছিলেন, গর্ভবতী স্ত্রীর সঙ্গে কামাসক্ত নিষ্ঠুর আচরণ করেছিলেন এবং বিড়ি খাওয়ার জন্য বাড়ির চাকরের পয়সা চুরি করেছিলেন। এছাড়া বন্ধুর ঋণের টাকা শোধ করতে তিনি নিজের ভাইয়ের সোনার তাগা কেটে চুরি করেছিলেন এবং মাংস খেয়ে মায়ের কাছে বারবার মিথ্যা কথা বলেছিলেন। বিলাতে থাকার সময় বিবাহিত ও এক সন্তানের পিতা হওয়া সত্ত্বেও নিজেকে অবিবাহিত বলে কুমারী মেয়েদের সাথে মেলামেশা করেছিলেন।

বইটির লেখক অলোককৃষ্ণ চক্রবর্তীর মূল উদ্দেশ্য ছিল গান্ধীজির জীবনের এই “অন্ধকার দিক” বা “কালো গান্ধী”-কে উন্মোচিত করে তথাকথিত ‘গান্ধী-মিথ’ ভেঙে ফেলা

অলোককৃষ্ণ চক্রবর্তীর বইটি ডাউনলোড করুন

Author: Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *