মানুষ ধরো, মানুষ ভজ।
শোন, বলি রে পাগল মন।
মানুষের ভিতরে মানুষ, করিতেছে বিরাজন।
বারি সিদ্দিকীর একটি বিখ্যাত গান।
বারি সিদ্দিকী অতি সত্য কথা অনুধাবন করেছেন, যা আমরা এত বছর পরে এসেও এই অমর বাণীকে অনুভব করছি এবং মান্য করছি। আমরা যদি প্রকৃতপক্ষে আমাদের উন্নতি সাধন করতে চাই, তবে অবশ্যই মানুষ ধরতে হবে। শিষ্য সর্বদা গুরুকে আশ্রয় করে থাকবে। ছাত্র শিক্ষককে। অজ্ঞানী জ্ঞানীকে। প্রজা রাজাকে।
জীবন পথে যে উন্নতি করতে চায়, অবশ্যই গুরুর শরণাপন্ন হতে হয়। একা কেউ বড় হতে পারে না।
বর্তমান আধুনিক যুগে প্রযুক্তি আমাদেরকে বহু কিছু দিয়েছে। কিন্তু এত সব থাকা সত্ত্বেও আমরা একাকী বড় হতে পারবো না। তাই মানুষ ধরো, মানুষ ভজো, শোন বলি রে পাগল মন কথাটি তাৎপর্য পূর্ণ।
আধ্যাত্মিক স্তরে হোক অথবা জাগতিক স্তরেই হোক না কেন, এর গুরুত্ব রয়েছে। যখন আমরা বিত্তশালী হতে চাই, তখন যারা অর্থ-বিত্ত অর্জন করেছেন, তাদের শরণাপন্ন হতে হয়। যে জ্ঞান অর্জন করেছে, জ্ঞান অন্বেষণে তার শরণাপন্ন হতে হয়। ক্ষমতার জন্য ক্ষমতাবানের সহচর্য আবশ্যক।
আত্মসমর্পণ করলেই কেবল উন্নতি সম্ভব; আত্মসমর্পণ করতে হবে একজন যথার্থ জ্ঞানী, অর্থবিত্ত দ্রষ্টা অথবা ক্ষমতাবানের নিকট।
যার যেমন উদ্দেশ্য, ঠিক তেমনি সেই উদ্দেশ্যকে সম্মুখে রেখেই গুরু ধরতে হবে। যাকে আত্মসমর্পণ করা যায়, আত্মসমর্পণ নিজেকে বিকিয়ে দেওয়া নয়। আত্মসমর্পণ হল গুরুর সমস্ত জ্ঞান ধারণ করা এবং বহন করতে পারার যোগ্যতা অর্জন করার প্রথম ধাপ। অর্থবিত্ত উপার্জনের জন্য, যারা ধনবান, তাদের সান্নিধ্যে আসতে হয় এবং সেই মানুষটিকে ধরতে হয় আষ্টেপিষ্টে। জ্ঞান অর্জনের জন্য আমরা জ্ঞানীকে আচার্য মানি। কোন বিষয়ে জ্ঞানী হলে তার পোশাক পরিচ্ছদ যতই সংকীর্ণ হোক না কেন আমরা তারা জ্ঞান কে নমস্কার করি।
অর্থ উপার্জনের জন্য জ্ঞান দরকার। যেমন যার ট্রেডিং করার জ্ঞান রয়েছে এবং ট্রেডিং করে যথেষ্ট ধনবান হয়েছে, তার ট্রেডিংয়ের জ্ঞানকে আমরা নমস্কার করি। যার ভগবত ভক্তি রয়েছে এবং ধর্মশাস্ত্রে অগাধ পাণ্ডিত্য রয়েছে। তার জ্ঞানকে আমরা নমস্কার করি। সেই জ্ঞানীকে আমরা নমস্কার করি এবং ভজনা করি। আত্মসমর্পণ অথবা মানুষ ধরা অবশ্য প্রয়োজন। এভাবেই আমরা আমাদের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারব।