Vector Map Services

Free Vector Map Services

সফল ব্যক্তিদের অভ্যাস কি যা তাদের সফল করেছে?

সফলতা হঠাৎ একদিনে আসে না। সফল হতে প্রতিদিন একটু একটু করেই কর্ম করে যেতে হয়। নিষ্ঠা ও একাগ্রতার নাম ই সফলতা। আমি একজন বৃদ্ধ কে জানি যিনি বৃদ্ধ বয়সেও সফল হয়েছেন এবং প্রচুর সম্পত্তির মালিক হয়েছেন। তিনি একটা প্রত্যন্ত গ্রামে বাস করতেন । গ্রামের নাম করুণা। গ্রামের বেশিরভাগ মানুষ দরিদ্র। লোকটির নাম রুদ্র প্রতাপ। সকলে রুদ্র বলেই ডাকে। অলসতা ও দারিদ্র্যের জন্যই তার ভাগ্যের চাকা ঘোরে নি। প্রতিদিন বিকালে চায়ের দোকানে গিয়ে আড্ডা দেয় তাস খেলে। সময় নষ্ট করে। তাস খেলা তার নেশায় পরিণত হয়েছে। বিকাল হলেই তার সাথীরা তাকে চায়ের আড্ডায় নিয়ে যায়।

একদিন তাস খেলতে খেলতে রাত বারোটা বেজে যায় বাসায় গিয়ে দেখে রান্না নেই। তখন বাসায় বাজার করা নাই। এই নিয়ে দু এক কথায় ঝগড়া বেঁধে যায়। বৃদ্ধ বয়সে আয় এর উৎস না থাকায় মন খারাপ করে সারারাত পার করে। সকালে বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়। সারাক্ষণ ভাবতে থাকে কিছু একটা কাজ করতে হবে। নিকটবর্তী একটি বাজারে গিয়ে একটি দোকানে বসে। চায়ের দোকানে। হঠাৎ বিলাসবহুল একটি গাড়ি এসে থামল। গাড়ি থেকে দুটি ছেলে আধুনিক পোশাক চোখে চশমা পরিপাটি চুল। গাড়ি থেকে নেমে তারা চা খাওয়ার জন্য রাস্তার পাশেই একটি ছোট্ট টঙ দোকানে বসলো। রুদ্র প্রতাপের পাশেই চা খেতে খেতে তারা গল্প করছে যে, আজ ফরেক্স ট্রেডিংয়ে তাদের স্টপ লস হিট করে এক হাজার ডলার লস করে মার্কেট বুম হয়েছে। আজকে তাদের সামগ্রিক এক হাজার ডলার লস হয়েছে বলে তারা দুজন কথা বলছে। অন্য বন্ধু বলছে এ তো তোমার সাধারণ ব্যাপার, তুমি মিলিয়ন ডলার ট্রেড করো ১০০০ ডলার তো 1000 ভাগের একভাগ কি এমন ক্ষতি! বৃদ্ধ লোকটি ভাবছে এক হাজার ডলার অর্থ বাংলা টাকায় ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা! মিলিয়ন ডলার তো তার কল্পনায় আসে না।। রুদ্র প্রতাপ বৃদ্ধ হলেও মনে মনে কাজ করার সংকল্প নিয়ে বাসা থেকে বের হয়েছে। সংসারে অভাব। কিছু একটা করতেই হবে। বাসায় স্ত্রী। রুদ্র প্রতাপ বুঝতে পারল যে গাড়ি থামিয়ে চা খাওয়া লোক দুইটি অঢেল সম্পত্তির মালিক। সমস্ত সংকোচ দূর করে বৃদ্ধ প্রতাপ তাদেরকে বলল স্যার আমাকে যদি একটি কাজ দিতেন? আপনার বাসা, বাড়ি, অফিসের যেকোনো কাজ আমি করে দিতে পারব। আমার সংসারে খুব অভাব। আমার একটি কাজ দরকার। রুদ্র প্রতাপের অনুরোধ শুনে সানগ্লাস পরিহিত লোকটি বলল, তুমি কি কাজ করতে পারবে, রুদ্র প্রতাপ বলল স্যার আমি আপনার অফিসের সমস্ত কিছু সুন্দর করে গুছিয়ে রাখতে পারব এবং প্রতিদিন আমি বাড়ি থেকে গিয়ে আমি আপনার অফিস সুন্দর করে গুছিয়ে দিয়ে আসব। এজন্য আমাকে সামান্য বেতন দিলেও চলবে। আমি শুরু করতে চাই।

সানগ্লাস পরিহিত লোকটি তাকে গাড়িতে উঠিয়ে নিল এবং তার অফিসের সমস্ত কাজ বুঝিয়ে দিল। সমস্ত কাজ বলতে অফিস গুছিয়ে রাখা পরিপাটি করে সুন্দর করে ফ্লোর ঝাড় দেওয়া এটাই রুদ্র প্রতাপ এর কাজ। দশ হাজার টাকা বেতন। বাড়ি থেকে অফিসে যেতে রুদ্র প্রতাপ এর খরচ হয় ১০০ টাকা। রুদ্র প্রতাপ অফিসের ঢুকেই দেখে অতি আধুনিক সাজ সজ্জায় সজ্জিত অফিস, সুন্দর পরিপাটি ঝাড়বাতি, এয়ারকন্ডিশন, ভিতর কার্পেট করা, বিশাল বড় কম্পিউটারের স্ক্রিন এবং একটি মনোরম পরিবেশ। অনেক বড় পরিসরের অফিস। ওয়ালে তাকিয়ে দেখে অনেক বড় করে লেখা রয়েছে স্যাম ট্রেডিং ইনিশিয়াটিপস নিচে লেখা রয়েছে শ্যামানন্দ ভাদুরী।

এই শ্যামানন্দ নামটি ছাড়া রুদ্র প্রতাপ তাদের বসের আর কোন পরিচয় জানেনা শুধু অফিস টি চেনে আর নামটি জানতে পারল। অফিস গুছিয়ে রাখার কথা বলে কেন রুদ্ধ প্রতাপকে চাকরি দিল এখনো তার মাথায় আসেনা।

রুদ্র প্রতাপ ভাবছে যেভাবেই হোক তাকে প্রচুর অর্থের মালিক হতে হবে। বসের সাথে তার সম্পর্ক ভালো। প্রতিদিন অফিসে আসে, বস যে কাজ দেয় সেগুলো করে, কখনো বাইরে যায়, কখনো অফিসের ভিতরেই কাজ। চা-কফি বানিয়ে খাওয়ানো ছাড়া কেমন কোন ভারী কাজ নেই। রুদ্ধ প্রতাপ দেখে তার বস বিশাল বড় কম্পিউটারের স্ক্রিনে ফরেক্স ট্রেডিং নিয়ে কাজ করে রুদ্র প্রতাপ কাজের ফাঁকে সেসব দেখে।

শ্যামানন্দ ভাদুর অনেক হৃদয়বান মানুষ, ইতিমধ্যেই রুদ্র প্রতাপ তা বুঝে নিয়েছেন। ট্রেডিংয়ের ফাঁকে ফাঁকে আজকে কত লাভ হলো কত লস হলো মাঝে মাঝে শ্যামানন্দ রুদ্র প্রতাপ এর সাথে আলোচনা করে। ধীরে ধীরে যুদ্ধ প্রতাপ ট্রেডিং এর বিষয়ে ধারণা পেতে শুরু করেছে। অন্তত এটা বুঝেছে যে ট্রেডিং হল টাকা কেনাবেচা করা যা কিনা ঘরে বসেই করা যায়। অর্থাৎ পৃথিবীর সমস্ত ট্রেডার ঘরে বসেই বিশ্বের সমস্ত কারেন্সি কেনাবেচা করতে পারে।

রুদ্র প্রতাপ ধীরে ধীরে ট্রেডিং সম্বন্ধে ধারণা পেতে শুরু করে। রুদ্ধ প্রতাপের একাগ্র চিন্তা অফিসে আসা এবং বসের সাথে ট্রেডিং এর বিষয়ে কিছু জ্ঞান লাভ করা। এভাবে তিনটি বছর পার হয়ে যায়। রুদ্র প্রতাপ একাগ্র চিত্তে ট্রেডিং সম্বন্ধে জ্ঞান লাভ করেছে। বসের সাথে এখন সে বাইরে ঘুরতে যায়। সময় কাটায়। তারা একে অপরের এখন বন্ধু রূপে কাজ করে।

রুদ্ধ প্রতাপ এখন বসের সহায়তায় অল্প অল্প ট্রেডিং করতে শুরু করেছে। বস যেহেতু ট্রেডিং এর একজন অভিজ্ঞ তাই রুদ্র প্রতাব ধীরে ধীরে সফলতার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। নিষ্ঠা এবং ধৈর্য থাকলে যে সফল হওয়া যায় রুদ্র প্রতাপ তা দেখিয়ে দিয়েছে। জীবনে উন্নতি করতে হলে কারো সহযোগিতা দরকার এবং ধৈর্য ও একাগ্রতা সাথী হয়ে সফলতার পথে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। রুদ্র প্রতাপ এর সংসারে এখন কোন অভাব নেই শ্যামানন্দ বাহাদুরির মতোই সে অর্থ ও প্রাচুর্যের মালিক হয়েছে।