Colorgeo

Classroom for Geology and Disaster

Spread the love

ভূমিকাঃ Agilent gcms ব্যবহার করে ২৫.৪ কোটি বছর পূর্বের ঘটনা পুনরুদ্ধার বাংলাদেশি গবেষক পারমিয়ান ট্রায়াসিক গন বিলুপ্তি একটি বহুল আলোচিত দুর্যোগের মত ঘটনার পুনরুদ্ধার করেছেন । পারমিয়ান এর শেষ সময়ে ২৫.৪ কোটি বছর পূর্বে সমুদ্রের গণ বিলুপ্তির সময়ে বৃহৎ আকারে মাটি ক্ষয় সাধন বা সয়েল ইরোসন ও স্থল ভাগের ইকো সিসটেম ধ্বংস হয়। যদিও সুনির্দিষ্ট সময ও এর ক্ষয় ক্ষতির পরিমাণ এখনো সম্পর্নভাবে জানা সম্ভব হয় নি।

দক্ষিণ চীনের একটি জায়গা নাম সাংশি যা কিনা পারমিয়ান সময়ের সমুদ্রজাত পাললিক শিলা মজত আছে। তাছাডা জাওহিবিয়ান নামে আরও একটি জাযগা সেখানে স্থলজ ভাগের পাললিক শিলা মজুত আছে। সেখান থেকে স্যাম্পল হিসাবে পাললিক শিলা নিয়ে তার নির্যাস বের করে সেগুলো থেকে বায়োমার্কার এর উপস্থিতি দেখে প্রাগৈতিহাসিক ঘটনা বলি সঠিক ভাবে বের করা সম্ভব। 

পৃথিবীতে গত ৫৪ কোটি বছর সময়ের মধ্যে পারমিয়ান ট্রিয়াসসিক সময়ের ( আজ থেকে ২৫.৪ কোটি বছর আগে) গন বিলুপ্তি ঘটনা হল সবথেকে বৃহৎ জীব বৈচিত্র্য ধ্বংসের ঘটনা । এ সময়ে প্রায় সমুদ্রের ৮০-৯০ শতাংশ প্রাণী মারা যায় এবং স্থলভাগে ৭০ শতাংশ প্রাণী মারা যায়। এই গন বিলুপ্তি জল ও স্থলভাগ উভয় স্থানেই সংগঠিত হয়েছিল।

Agilent gcms 
Agilent gcms ব্যবহার করে গবেষণার সার সংক্ষেপ

 

গবেষকরা এখনো স্থায়ী কোন সিদ্ধান্তে আসতে পারেনি যে, স্থল ভাগের বৃক্ষ কুল ধ্বংস জলভাগের প্রাণী ধ্বংসের সাথে সাথেই ঘটেছে নাকি আগে অথবা পরে ঘটেছে। সেই অজানাকে  গবেষণার মাধ্যমে উদ্ঘাতন করার জন্য এই বর্তমান গবেষণার সূচনা করা হয়েছে। এই গবেষণাটি জাপানের একজন স্বনাম ধন্য প্রফেসর কুনিও কাইহ তার ল্যাবে Agilent gcms ব্যবহার করে ২৫.৪ কোটি বছর পূর্বের ঘটনা পুনরুদ্ধার করেছেন। Agilent gcms একটি সূক্ষ্ম Biomarker বায়োমারকার পরিমাপক যা কিনা প্রাগৈতিহাসিক সময়ে যত ঘটনা পুনরুদ্ধার করতে পারে। কারণ Agilent gcms  ব্যবহার করে ঐ সময়ের পাললিক শিলা থেকে অণুজীব সমৃদ্ধ জৈব যৌগ কে গলিয়ে কেরজিন এ রূপান্তর করা হয় এর পরে Agilent gcms  মেশিনে দিয়ে সেই জৈব যৌগ থেকে প্রাপ্ত Biomarker বায়মারকার সনাক্ত ও পরিমাপ করে অতীত ইতিহাস ও ঐ সময়ের পরিবেশ সম্বন্ধে ধারনা পাওয়া যায়। এই গবেষণা একটি অতি সংবেদনশীল ও নিখুঁত ভাবে করতে হয়। কারণ বর্তমানের জৈব যৌগ মিশে সংক্রমিত হবে প্রকৃত ঘটনা পুনরুদ্ধার সম্ভব নয়। তবে জাপানের কাইহ Biomarker বায়োমারকার ল্যাবে Agilent gcms  মেশিন দিয়ে এটা করা যায়।

গবেষণার ফলাফল কি?

পারমিয়ান সময়ের শেষ ভাগে সমুদ্রের গন বিলুপ্তির  আগে  দুইটি আলাদা আলাদা সময়ে কয়েক ডজন কিলো বছর এর মধ্যে  দুটি পৃথক ভূমি বাস্তুসংস্থার ধ্বংসের ঘটনা ঘটে যেখানে অধিকাংশ  বৃক্ষরাজির ধ্বংস হয়। স্থলজ ভূখণ্ডে ব্যাকটেরিয়া র প্রাদুর্ভাব ঘটে সাথে সাথে বৃক্ষরাজি কমতে শুরু করে। সেই সাথে ২৫.৪ কোটি  সময়ে সমুদ্রের গন বিলুপ্তির সময়ে ব্যাকটেরিয়ার প্রাদুর্ভাব ঘটে । এর পরে সমুদ্রের গন বিলুপ্তির  কয়েক ডজন কিলো বছর পরে  কিছু গুল্ম জাতীয় গাছপালার উৎপত্তি হয়।  এটা বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির সাথে এবং  সমুদ্রের পানিতে অক্সিজেন এর মাত্রা একেবারেই ছিল না অথবা সামান্য কিছু আছে এই অবস্থায়। 

বায়োমারকার ল্যাবে Agilent gcms  মেশিন দিয়ে কারা গবেষণা করেছে?

জাপানের তোহকু বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক প্রফেসর কুনিও কাইহো র নেতৃত্বে গবেষণা পরিচালিত হয়। প্রধান গবেষক বাংলাদেশের পটুয়াখালীর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালের সহযোগী অধ্যাপক ডঃ রমন কুমার বিশ্বাস ও সহ গবেষক জাপানের রিও সুকে সাইত কাজ করেছেন। ডঃ রমন কুমার বলেন, এটা সত্যি একটা আনন্দের বিষয় যে নতুন একটি জ্ঞান সৃষ্টি হল । গবেষকদের কাজই নতুন নতুন জ্ঞান সৃষ্টি করা। পারমিয়ান সময়ের গণ বিলুপ্ত তে স্থলজ ও জলজ ভাগের গণ বিলুপ্তিতে কোন সর্ম্পক ছিল কিনা তা অমিমাংশিত ছিল ৷ আমাদের এই গবেষণা সেই সর্ম্পকটা পুরুদ্ধার করল। আমরা খুশি।

Shangsi section

এক নজরে সম্পুর্ন গবেষণা :

পাললিক শিলা স্যাম্পল : দক্ষিণ চীন এর সাংশি ও জাওহিবিয়ান ৷

শিলার বয়সঃ ২৫.৪ কোটি বছর

গবেষণার পদ্ধতিঃ বায়োমার্কার ল্যাব এ  বায়োমার্কার বা ফলিস অণু উদ্ঘাতন যেমন প্রিস্টেন,  ফাইটেন, আল্কেন ইত্যাদি

ল্যাব মেশিনঃ Agilent gcms 

সফট ওয়ারঃ আজিলেন্ট মাস হান্টার, এক্সেল, ইলাস্ট্রেটর, কালেইদাগ্রাফ

গবেষণার সম্পন্ন করার সম্ভাব্য সময়ঃ ২ বছর

গবেষণা তত্ত্বাবধায়কঃ প্রফেসর কুনিও কাইহো

পিএইডি ফেলো ও প্রধান গবেষকঃ ড. রমন কুমার বিশ্বাস

গবেষণা প্রকাশিতঃ ২০২০ সালে

জার্নাল নামঃ গ্লোবাল প্লেনটারি এন্ড চেঞ্জ , ইমপ্যাক্ট ফ্যাক্টর ৫.১৪

লিঙ্কঃ https://www.sciencedirect.com/science/article/abs/pii/S0921818120302186