মানব বিবর্তন এর প্রারম্ভিক ইতিহাস

মুগ্ধ তার বাবার সাথে চিড়িয়াখানা ঘুরতে গিয়েছে।সেখানে সে অনেক প্রজাতির জীব জন্তু দেখছে আর তার বাবার কাছে এক এক জীব জন্তু নিয়ে এক এক রকম প্রশ্ন করছে।মুগ্ধ বলছে,বাবা এখানে তো অনেক ধরণের জীব জন্তু আর পশু পাখি আছে কোনোটার সাথে কোনোটার মিল নেই কিন্তু বানর দের সাথে কেন মানুষের মিল রয়েছে।ওদের চোখ মুখের চাহনি হাত পা গুলো কেমন যেন মানুষের মতই বাবা? তখন মুগ্ধর বাবা তাকে বললেন ওরা আমাদেরই বিবর্তনীয় রূপ আবার নানাভাবে বিভিন্ন প্রজন্ম ধরে জিনের ক্রমবিবর্তন এর ফলেই হয়েছে আজকের মানুষ জাতি।আধুনিক মানুষের শিকড় দীর্ঘ সময় পূর্বে বহু মিলিয়ন বছর আগে ফিরে পাওয়া যায়। প্রাথমিক প্রমাণগুলো আসে জীবাশ্ম থেকে – কঙ্কাল, হাড়ের টুকরা, খুলি ইত্যাদি। এটি প্রায়শই মনে করা হয় যে জীবাশ্মগুলি কেবল সামান্য সূত্র সরবরাহ করে এবং মানব বিবর্তনের ইতিহাসের বেশিরভাগই অনুমান করা। তবে বিজ্ঞানীদের কাছে এমন অনেক সরঞ্জাম রয়েছে যা তাদের প্রাচীন হাড় এবং তাদের পরিবেশগত বিন্যাস থেকে সূক্ষ্ম তথ্য আহরণের স্বীকৃতি দেয়। আধুনিক ফরেনসিক কাজ এর ক্ষেত্র এবং পরীক্ষাগার এখন আমাদের পূর্বপুরুষদের জীবনযাত্রার একটি সমৃদ্ধ উপলব্ধি প্রদান করতে পারে।সময়টা ছিল গভীর সময় পূর্বের এবং দীর্ঘ সময়, সেই সময়ে পৃথিবীটি গঠিত হয়েছিল, অতীতে বহু মিলিয়ন বছর বিস্তৃত হয়েছিল।এর অধ্যয়ন হচ্ছে পৃথিবী আর ভূত্বত্তের রিজার্ভ (সংরক্ষিত বস্তু)। ভূতাত্ত্বিকেরা এখন ব্যাপক পরিমাণে জানেন কিভাবে দিনের পর দিন কোটি কোটি বছর ধরে পৃথিবীর উপরিভাগ পরিবর্তিত হয়েছে এবং পৃথিবীর উপরিভাগ যে শিলা তৈরি করে তা ক্রমবর্ধমান নির্ভুলতার সাথে। মহাকাশে ঘনীভূত উপাদান থেকে প্রায় ৪,৫০০ বছর পূর্বে পৃথিবী গঠিত হয়েছিল। প্রথমে পুরো গ্রহটি গলিত অবস্থায় ছিল এবং কোনও শক্ত ভূত্বক, জল বা বায়ুমণ্ডল ছিল না।প্রায় ৫০০ মিলিয়ন বছর পরে পৃষ্ঠটি শিলা গঠনে ঠাণ্ডা হয়েছিল এবং সমুদ্র জমে উপরিভাগ আবারো ঠাণ্ডা হয়েছিল। প্রথম সাধারণ মাইক্রোবিয়াল জীবন উদ্ভূত হয়েছিল প্রায় ৩,৬০০ মিলিয়ন বছর পূর্বে। পরবর্তী ৩০০০ মিলিয়ন বছর জীবন তুলনামূলকভাবে সহজই থেকে যায়, আণুবীক্ষণিক থেকে দৃশ্যমান গঠনগুলিতে অগ্রসর হয়। এই পুরো সময়টাকে ভূতাত্ত্বিকগণ পূর্বসূরী বলে অভিহিত করেন। ভূতাত্ত্বিক সময়ের অবশিষ্ট বিগত 544 মিলিয়ন বছর বেশি জানা যায় কারণ জীবাশ্মগুলি প্রথম সেই যুগের শিলায় বিস্তৃত হয়েছিল। জীবাশ্মগুলি সেই সময়ের জীবন সম্পর্কে আমাদের জানায় এবং এর ভূতাত্ত্বিক টাইমস্কেল নির্ধারণ করতে ব্যবহৃত হয়। এই স্কেলটি পুনর্বিবেচনা ও উন্নতির ঊর্ধ্বে।এই গ্লোবগুলি সময়ের সাথে মহাদেশগুলির অবস্থান দেখায়। মহাদেশগুলি হলো একত্রে আফ্রিকা ও ভারত মহাদেশ এর কিছু অংশ। বিভিন্ন মহাদেশ তখন থেকে আলাদা হয়ে গেছে। ভূতাত্ত্বিক সময়কাল কে যুগ এবং কাল এই ২টি অংশে ভাগ করা হয়েছে যেগুলি মূলত 1830 এবং 1840 এর দশকে নামকরণ করা হয়েছিল।এই দশকের বছরের গঠনগুলো থেকে যা জানা যায় তা হলো একটি গলিত শিলা থেকে স্ফটিকাকার খনিজ তৈরী হয়,যা বহন করে তেজস্ক্রিয় ইউরেনিয়াম -২৩৫ পরমাণু। অবশেষে আইসোটোপ সীসা-২০৭ গঠনের জন্য  ইউরেনিয়াম -২৩৫ আস্তে আস্তে ক্ষয় হতে থাকবে। আর টাইমস্কেল ডেটিং থেকে জানা যায়,স্ট্যান্ডার্ড জিওলজিক্যাল টাইমস্কেল আঞ্চলিক ভূতত্ত্ব,জীবাশ্ম পারস্পারিক সম্পর্ক এবং পরম ডেটিং এর স্কেল এর উপর নির্ভর করে।২০০ বছর আগে আঞ্চলিক ভূতাত্ত্বিক কাজ শুরু হয়েছিল যখন ইংল্যান্ড, ফ্রান্স এবং জার্মানির ভূতাত্ত্বিকেরা লক্ষ্য করেছিলেন যে, শিলাস্তর গুলো অনুমানযোগ্য ক্রমে ঘটেছিল এবং এটিকে প্রায়শই কোনো নির্দিষ্ট জীবাশ্ম দ্বারা চিহ্নিত করা যেতে পারে।একই জীবাশ্ম, শিলার বয়সও একই।আর জায়গায় জায়গায় এসমস্ত জীবাশ্মের হাজার হাজার সংযোগ কয়েক মিলিয়ন বছরে বিশদ আপেক্ষিক টাইমস্কেল তৈরী করে।এছাড়া নির্দিষ্ট ভূতাত্ত্বিক তারিখ গুলো নির্দিষ্ট শিলার তেজস্ক্রিয় খনিজ গুলো থেকে আসে,বিশেষ করে পললগুলোর অনুক্রমের মধ্যে আগ্নেয়গিরির ছাই থেকে আসে।যখন গলিত ছাই স্থির হয়ে যায়, তখন অনেক সদ্য খনিজ এর কাঠামো স্থির হয়ে গিয়েছিল।তেজস্ক্রিয় খনিজ যেমন ইউরেনিয়াম বা পটাশিয়াম লক্ষ লক্ষ বছরেরও বেশি সময় ধরে ক্ষয় হতে থাকে।কার্বন -১৪ হলো রেডিওমেট্রিক ডেটিং এর অন্যরূপ যা কেবল ক্ষয় পরিমাপ এর নীতিতে কাজ করে।এটি শুধু ৫০,০০০ হাজার বছর পর্যন্ত পুরোনো জৈব পদার্থের কাজ করে।এভাবেই ক্রমানুসারে চলতে থাকে ভূতাত্ত্বিক গঠনের সাথে সাথে জীবাশ্ম বিবর্তন অর্থাৎ মানব বিবর্তনের ধারা।

Please follow and like us:

উপমা সাহানী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Next Post

অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি যে,মানুষ কাঁচা মাংস খায়

Tue Aug 11 , 2020
অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি যে,মানুষ কাঁচা মাংস খায় (Eskimo) এক্সিমোদের উত্থান সাইবেরিয়ায়। চিনা-জাপানিদের মতোই জাতিতে তারা মঙ্গোলয়েড। কাজেই এদের সঙ্গে ‘আমেরিইন্ডিয়ানদের’ জ্ঞাতিসম্পর্ক নেই। এক্সিমোরা উত্তর আমেরিকায় আসতে শুরু করেছিল প্রায় দুই হাজার বছর আগে। লম্বায় ওরা পাঁচ ফুট থেকে পাঁচ ফুট তিন ইঞ্চির বেশি হয় না। শরীরের গঠন শক্তিশালী। তারা কৌশলী, […]
Eskimo