জীবনের সমস্যাগুলোর মোকাবেলার সেরা উপায় হলো মুভি টেকনিক প্রয়োগ করা। আমরা প্রাত্যহিক জীবনে থিয়েটারে গিয়ে যখন সিনেমা দেখি, সিনেমার শুরুতে সুন্দর একটি happy moment থাকে।
এরপর ধীরে ধীরে সিনেমার গল্প এগোতে থাকে এবং ড্রামা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে একটি ক্লাইম্যাক্সের দিকে যেতে থাকে। মুভির চরিত্রগুলো যেমন একটি সুন্দর, সুখী পরিবার থেকে হঠাৎ একটি বিপদ এসে সবকিছু উলটপালট করে দেয়। মুভিটি একটি পরিপূর্ণ ক্লাইম্যাক্সে পৌঁছে যায়, যেখানে থাকে হতাশা, ভয়, অনিশ্চয়তা, চ্যালেঞ্জ এবং দুঃখ ও সুখের এক সন্ধিক্ষণ। আমাদের প্রচলিত মুভিগুলোতে শেষ পর্যায়ে সমস্ত ক্লাইম্যাক্স দূর হয়ে একটি হ্যাপি এন্ডিং দেখা যায়।
চরিত্রের নায়ক-নায়িকা সুখে শান্তিতে বসবাস করে। একটি সুন্দর পরিসমাপ্তি ঘটে।
মানুষের জীবনের সমস্যাগুলো ঠিক মুভির মতোই।
ব্যক্তি জীবনে আমরা যখন শৈশবে হাসি, আনন্দ, উল্লাস করে কাটিয়েছি, অল্পতেই পরিতৃপ্ত হয়েছি। ধীরে ধীরে আমাদের বয়স বাড়ে।
সময়ের প্রয়োজনে জীবন ঘটনাবহুল একটি অধ্যায়ে পরিপূর্ণ হয়।
জীবনে থাকে ক্লাইম্যাক্স, হতাশা, না পাওয়ার বেদনা, দুঃখ-কষ্ট, হাসি এবং আনন্দের সমন্বয়। আমাদের জীবনের দুঃখ-কষ্টগুলো আসবে, এটাই স্বাভাবিক। সমস্যা নিয়ে পড়ে থাকলে সমস্যাগুলো আরও ঘনীভূত হবে। কারণ, আমরা যখন কোনো বিষয় নিয়ে ভাবতে থাকি, আমাদের অবচেতন মন সেই বিষয়টা চিরস্থায়ী করে নেয়।
সচেতন মন যা চিন্তা করে, অবচেতন মন তা বাস্তবায়ন করতে চেষ্টা করে। তাই, আমরা কখনোই দুঃখের সমুদ্রে নিমজ্জিত হবো না।
দুঃখ-কষ্ট আসলেও, তাকে আমরা বেশিক্ষণ স্থায়ী হতে দিব না। এমন ভাবনা আমাদের অবচেতন মনকে জাগ্রত করবে এবং দুঃখের চিরস্থায়ী বসবাস নিরুৎসাহিত করবে।
তাহলে জীবনের ঘটনাগুলোকে একটি মুভির মতো কল্পনা করে, সর্বশেষে হ্যাপি এন্ডিং রয়েছে এমন ভাবনাই আমাদের দুঃখ-কষ্ট মোকাবেলা করার সেরা উপায়।