পৃথিবীতে মানুষ কত দিন টিকতে পারবে ?

একটা শিশু জন্ম নেবার পর তাকে তিলে তিলে গড়ে তোলে মা বাবা। বিছানা থেকে পড়ে গেলে অথবা আগুনে হাত দিলে কি হবে সেটা সে জানে না । শিশুটি কিছুকাল প্রকৃতির নিয়ন্ত্রণে যেমন প্রাণীকুল জীবন কাটায় তেমনি বেড়ে ওঠে। যখন বুদ্ধি আরও পরিপক্ক হয় সে দেখে একটা পরিবেশ যেখানে মা বাবা আত্মীয় স্বজন তাকে অতি আদরে স্নেহে বড় করে। শিশুটি অনুভব করে সে একটা গণ্ডির মধ্যে আছে যেখানে আদর স্নেহ মায়া রয়েছে। মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব এই পৃথিবীতে । কল্পনাতীত কোটি কোটি আলোক বর্ষ দূরে আরও কোনও অধিকতর বুদ্ধি মান প্রাণ আছে কি না কে জানে ?

শিশুটি যখন বড় হতে থাকে সে শুধু তার দৃষ্টির পরিধির মধ্যে নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখে। আর সেভাবেই তার কল্পনা শক্তি নির্ধারিত হয়। মেঘ মুক্ত রাতের আকাশে তাকালে আমাদের দৃষ্টির সীমা কয়ে কয়েক লক্ষ আলোক বর্ষ দূরে পর্যন্ত যায়। কিন্তু বিজ্ঞানের আবিষ্কারের আগে প্রাচীন মানুষ জানত না আর এখন আধুনিক যুগ বিজ্ঞানের যুগ। এখনো অনেক মানুষ সেটা উপলদ্ধি করতে পারে না। এজন্য দরকার দূরদৃষ্টি।

মহা বিশ্বের বিশালতার কাছে মানুষ আসলেই অতি ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র।

প্রাচীন পৃথিবী থেকে বর্তমান পৃথিবীর ঘটনাবলী ও প্রকৃতির নিয়ম কানুন সমন্ধে মানুষ অনেক কিছুই জেনেছে। মানুষ ই এই জ্ঞান পৃথিবী ব্যাপি ছড়িয়ে দিয়েছে। বিজ্ঞানী কোপারনিকাস প্রথম যেদিন বলেছিলেন পৃথিবী নয় সুর্যই সৌরজগতের কেন্দ্রে রয়েছে তখন কেউ বিশ্বাস করেনি। এজন্য তার জীবন দিতে হয়েছে।

এখন আমরা বর্তমান পৃথিবীর সুদূর অতীতে কি কি ঘটেছিল বিজ্ঞানের আবিষ্কারের ভিত্তিতে এক ঝলক দেখে আসা যাক।

মহাবিশ্ব সৃষ্টির সর্বজন স্বীকৃত মতবাদ Big Bang বিগ ব্যাং থিওরী বলে আনুমানিক ১৩ বিলিয়ন বছর আগের স্বতস্ফূর্ত বিস্ফোরণ থেকে বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ডের সৃষ্টি। এর পর অনেক কাল অতিবাহিত হয়েছে যখন পৃথিবীতে প্রথম প্রাণ সৃষ্টি হয়। আজ থেকে ৫৩০ মিলিয়ন বছর পূর্বে পৃথিবীতে অতি বৃহৎ ৫ টি প্রাণ ধ্বংসকারী ঘটনা ঘটে। এই ধ্বংসকারী ঘটনাগুলোর প্রতিটির মধ্যে সময়ের ব্যবধান এত বেশি যে মানুষের ক্ষণস্থায়ী জীবনের তুলনায় কিছুই না।

মহা বিশ্বের এই বিশালতার মধ্যে মানুষই সেরা জীব। মানুষ সেরা জীব কিন্তু তাঁরা কতদিন পৃথিবীতে টিকে থাকতে পারবে? কারণ প্রকৃতির নিয়মের কাছে মানুষ এখনও অসহায়। যেমন পৃথিবীর বুকে মহা শূন্য থেকে একটি উল্কা পড়লে যে ক্ষতি হবে তার প্রতিরোধ করার সক্ষমতা এখন পর্যন্ত মানুষের নাই। মানুষ যদি এই পৃথিবী ছেড়ে অন্য কোনো গ্রহে আবাস গড়তে পারে তবেই মানুষের বিলুপ্তি হওয়া থেকে রক্ষা করা যাবে। বিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং তার ” Brief answer to the Big question” বইটিতে সে সমন্ধে বিস্তারিত লিখেছেন। তিনি আরো পৃথিবীর মানুষকে সতর্ক করে দিয়েছেন যে মানুষ যদি অন্য কোনো গ্রহে আবাস গড়তে না পারে তবে ৬ কোটি বছর ধরে পৃথিবী তে একদা বসবাসকারী ডাইনোসদের মত করুন পরিণতি হবে।

৫৩০ মিলিয়ন বছর থেকে আজ অবধি ঘটনা গুলো পর্যালোচনা করলে দেখাযায়, বৃহৎ ধ্বংসাত্মক ঘটনা গুলো একটি নিয়মিত ঘটনা।

১। অরডোভিসিয়ান- সিলুরিয়ান গণ বিলুপ্ত:

এটা ঘটেছিলো ৪৪৪ মিলিওন বছর পূর্বে।

কারণ: পৃথিবীর বিস্তীর্ণ অঞ্চল তুষারে আচ্ছাদিত হবার কারণে। পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম ধ্বংসাত্মক গণ বিলুপ্তি। মোটামুটি ৮৫% প্রাণী মারা যায়।

২। লেট ডেভোনিয়ান গণ বিলুপ্তি:

এটা ঘটেছিলো ৩৮৬-৩৫৯ মিলিয়ন বছর আগে। ২০ মিলিয়ন সময়ের মধ্যে মারা গিয়েছিল ৭৫ শতাংশ প্রাণী। ডিভোনিয়ান সময়ের গণ বিলুপ্তি কয়েক টি সিরিজ আকারে ঘটেছিলো। এর মধ্যে একটি ঘটনাকে বলে কেলোয়াসার ইভেন্ট। এই সময়ে হঠাৎ করে অক্সিজেন লেভেল পর্যাপ্ত পরিমাণে কমে যায়, এবং ওই সময়ে সমুদ্রে বসবাসকারী প্রাণী যেমন, কোনো ডন্ট, অক্টোপাস, সহ বিপুল পরিমাণে প্রাণী মারা যায়। Kellwasser event ঘটেছিলো ৩৭২ মিলিয়ন বছর আগে। অক্সিজেন লেভেল কমে যাবার কারণে সামুদ্রিক স্পঞ্জ, কোরাল রিফ সৃষ্টিকারী বিভিন্ন প্রাণীও মারা যায়।

কারণ:

লেট ডেভোনিয়ান গণ বিলুপ্তির প্রকৃত কারণ বিজ্ঞানীরা এখনো সঠিক ভাবে বলতে পারে না তবে অগ্নেয়গিরির উদগীরণ একটি প্রধান কারণ হতে পরে। বর্তমান। সাইবেরিয়ার অবস্থিত Viluy Traps উদগীরণ যা কিনা ২৪০০০০ ঘন মাইল পরিমাণ লাভা বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে কেলওয়াসার ঘটনার সময়ের মধ্যে ঘটেছিলো। এর ফলে বিপুল পরিমাণ গ্রীন হাউস গ্যাস ও সালফার ডাই অক্সাইড যথাক্রমে বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি ও অ্যাসিড বৃষ্টি সৃষ্টি করেছিল। মহাশূন্যে থেকে উল্কাপাত এর একটা কারণ হতে পারে বলে কিছু কিছু বিজ্ঞানী মত দিয়েছে।

যদিও এটা খুব অবিশ্বাস্য মনে হবে কিন্তু এ বিষয়ে বিজ্ঞানীদের প্রচুর গবেষণা রয়েছে যে স্থলভাগের গাছপালা সামুদ্রিক প্রাণীর গণ বিলুপ্তির কারণ। বোঝার সুবিধার জন্য কথা সম্ভব বিস্তারিত বলা হলো। Devonian সময়ের গাছপালা গুলো প্রকৃতির আশীর্বাদে স্টেম সেল ও ভাসকুলার সেল উপর্যপরি উন্নতির কারণে প্রকৃতিকে গাছ পালা গুলোর অভিযোজন ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। এবং গাছপালা গুলোর মূল শিকড় মাটির অধিকতর গভীরতায় পৌঁছে যায়। যার ফলে মাটি ও পাথরের ক্ষয় হওয়ার হার বৃদ্ধি পায়। যত বেশি পাথরের ক্ষয় সাধিত হবে তত বেশি মাটির খনিজ পদার্থ ও মৌলিক উপাদান সমুদ্রের পানিতে মিশে হবে। অধিক পুষ্টি উপাদানের ফলে পানিতে অধিক আলজি (algae) অণুজীব তৈরি হবে। এবং এগুলো মারা গেলে পচনের সময় অধিক দ্রবীভূত অক্সিজেন প্রয়োজন হয়। যার ফলে সমুদ্রের পানিতে একটা সময় অক্সিজেন স্বল্পতা হয়। এই অঞ্চলকে ডেড জোন dead zone বলে। ফলে সমুদ্রের প্রাণী ধীরে ধীরে মারা যায়। সেই সাথে অধিক গাছপালার কারণে CO2 কার্বন ডাই অক্সাইডের স্বল্পতায় বৈশ্বিক ঠান্ডা ( Global Cooling Event) জলবায়ু হওয়া য় প্রাণীর সঙ্কটাপন্ন অবস্থা হয় এবং প্রাণী মারা যায়।

৩। পার্মিয়ান – ট্রায়াসিক গণ বিলুপ্তি:

এটা ঘটেছিলো ২৫২.২ মিলিয়ন বছর আগে। মারা যায় ৯৬ শতাংশ সামুদ্রিক প্রাণী ও ৭০ শতাংশ স্থলজ প্রাণী। Permian Triassic গণ বিলুপ্তি কে বলা হয় Great Dying কারণ এই সময়েই পৃথিবীতে সব থেকে বেশি প্রাণী মারা যায়। মাত্র ৬০০০০ ষাট হাজার বছরের মধ্যে এত প্রাণী মারা যায়। পৃথিবীর বনাঞ্চল মোটামুটি পুরোটাই ধ্বংস হয়ে যায় এবং ১ কোটি বছরের আগে আর কোনো পরিপূর্ণ গাছ পালা দেখা যায় নি। সামুদ্রিক প্রাণী ধ্বংস হবার পর ৬০-৮০ লক্ষ বছর সময় নিয়েছিল পুনরায় প্রাণীর পরিপূর্ণ ভাবে সংখ্যা বৃদ্ধি হতে।

কারন: বর্তমান রাশিয়াতে অবস্থিত সাইবেরিয়া থেকে আগ্নেয় গিরির উদগীরণ। এই উদগীরণ শুধু একক কোনো উদগীরণ এর ঘটনা নয়। দীর্ঘদিনের বহু সংখ্যক উদগীরণ ঘটনা। যার ফলে বৈশ্বিক তাপমাত্রা বেড়ে গিয়ে স্থলভাগের সমস্ত গাছপালা দীর্ঘ মেয়াদে ক্ষতি সাধিত হয় এবং ধ্বংস হয়। যার ফলে মাটির ক্ষয় সাধন ত্বরান্বিত হয়। সমুদ্র তীর বর্তী এলাকাকে যা সমুদ্রের পানিতে মিশে অধিক খনিজ সমৃদ্ধ করে যার ফলে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অণুজীব সৃষ্টি হয় অধিক পরিমাণে। এই অণুজীব যেমন অ্যালগী, সমুদ্রের দ্রবীভূত অক্সিজেনের সংকট তৈরি করে ফলে দীর্ঘ মেয়াদ এ বড় প্রাণী গুলোও মারা যায়।

৪। ট্রিয়াস্যাসিক – জুরাসিক গণ বিলুপ্ত

পর্মিয়ান ট্রিয়াসিক সময়ে উদ্ভিদ রাজির পুনঃ স্থাপন হতে দীর্ঘ সময় লেগে যায়। কিন্তু যখন একবার গাছপালা গুলমো বৃক্ষরাজি জন্মাতে থাকে তখন থেকে এদের প্রাচুর্যতা অধিক হয়।

বিশেষ করে ঘাস জাতীয় গুলম ও চারণ ভূমি বৃদ্ধি পায় আর এতে সরীসৃপ জাতীয় প্রাণী সংখ্যায় বৃদ্ধি পায় এবং archosaurs পক্ষিকুলের পূর্বসুরী ও কুমির প্রজাতির সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। কিন্তু ২০১ মিলিয়ন বছর পূর্বে পৃথিবী আরও একটি বৃহৎ গণ বিলুপ্তির শিকার হয়। এটাকে বলে ট্রিয়াস্যাসিক – জুরাসিক গণ বিলুপ্ত। এসময় ৮০% জলজ ও স্থলভাগের প্রাণী ধ্বংস হয়।

Triassic যুগের শেষে পৃথিবী ৫-১১ ডিগ্রি ফারেনহাইট তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায় কারণ CO2 বৃদ্ধি পায়। এর প্রধান কারণ হল তৎকালীন পৃথিবী পাঞ্জিয়া নামক একটি সুপার কন্টিনেন্ট (মুল ভূখণ্ড) ছিল সেখানে অবস্থিত সেন্ট্রাল আটলান্টিক মাগ্মাটিক প্রভিঞ্চ (Central Atlantic Magmatic Province) থেকে বিপুল পরিমাণ লাভা উদ্গিরন হয় যেখান থেকে গ্রিন হাউস গ্যাস নির্গত হয় (কার্বন ডাই অক্সাইড) যার বিস্তৃতির পরিমাণ ছিল বর্তমান আমেরিকার সম্পূর্ণটাই। যা কিনা কন্টিনেটাল ড্রিফট এর কারণে বা মহাদেশ টি বিভক্ত হয়ে দক্ষিণ আমেরিকার পূর্ব ভাগ, উত্তর আমেরিকার পূর্ব ভাগ এবং পশ্চিম আফিকা মহাদেশে ছড়িয়ে পড়ে। বিপুল পরিমাণ নির্গত কার্বন ডাই অক্সাইড সমুদ্রের জলরাশিকে আসিডিক করে তোলে যার ফলে সমুদ্রের প্রাণী মারা যায়।

কিছু বিজ্ঞানী প্রমাণ পেয়েছেন যে আগ্নেয়গিরির অগ্নুৎপাত থেকে বাতাসের কার্বন ডাই অক্সাইড বৃদ্ধি পেয়ে পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি করে ও সালফার ডাই অক্সাইড এর কারণে এসিড বৃষ্টি এই ট্রিয়াস্যাসিক – জুরাসিক গণ বিলুপ্ত র প্রধান কারণ। অন্য বিজ্ঞানীরা ধূমকেতু অথবা উল্কা পাত কারণ হিসাবে ধারনা করেছে। এ সময় পৃথিবীর ৮০% প্রাণী ধ্বংস হয়। এর মধ্যে বিভিন ধরনের স্তন্য পায়ী প্রাণী যেগুলো প্রবর্তিতে ডাইনোসর এ বিবর্তন হয়েছিল।

৫। ক্রিটেসিয়াস – প্যালিওজিন গণ বিলুপ্ত

ক্রিটেসিয়াস – প্যালিওজিন গণ বিলুপ্ত হল সাম্প্রতিক সময়ের গন বিলুপ্তির ঘটনা। এর মুল কারণ ছিল উল্কা পাত। ডাইনোসর সহ ৭৬% প্রাণী ধ্বংস হয় ।

কারণ: একদা, প্রায় ৬৬ মিলিয়ন বছর আগে ৭.৫ মাইল আকারের (ব্যাস) উল্কা বর্তমান মেক্সিকোর Yucatan Peninsula ( ছিক্সুলাভ) নামক জায়গা তে ৪৫০০০ কিমি/ঘন্টা বেগে একটি উল্কা আছড়ে পড়ে। ১২০ মাইল বিস্তৃত একটি Crater ( আঘাতের ফলে সৃষ্ট গর্ত) তৈরি হয় এবং বিপুল পরিমাণ ধুলা, বালি, পাথর, আগুন ও সালফার বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে। পৃথিবী ক্ষণকালের জন্য সূর্যের আলো থেকে বঞ্চিত হয় এবং সৃষ্টি হয় প্রচণ্ড থাকা পরিবেশ।একে বলা হয় বিশ্ব শীতলতা। ৯০০ মাইল বিস্তীর্ণ এলাকায় গাছপালায় আগুন ধরে যায় সমুদ্রে সৃষ্টি হয় সুনামি। রাতারাতি পরিবেশ ধ্বংস হতে শুরু করে। এছাড়া ইন্ডিয়াতে অবস্থিত ডেকান ট্র্যাপ উদ্গিরিন হতে শুরু করে। কিছু কিছু বিজ্ঞানী মনে করেন ডেকান ট্র্যাপ উদ্গিরিন মূলত উল্কা পাতের ফলেই শুরু হয়েছিল যা কিনা ক্রিটেসিয়াস – প্যালিওজিন গণ বিলুপ্ত ঘটনা তরান্বিত করে। এই ধ্বংসাত্মক ঘটনা পরবর্তী পৃথিবীতে নতুন নতুন প্রজাতি বিবর্তন হয়। সম্ভবত মানুষ সৃষ্টি ও এই বিবর্তন প্রক্রিয়ার একটি অংশ।

৬। বর্তমান সময়ের গন বিলুপ্তি ( ষষ্ঠ গন বিলুপ্তি)

বর্তমান পৃথিবী ইতিমধ্যেই ষষ্ঠ গন বিলুপ্তির সম্মুখীন হতে শুরু করছে। পৃথিবী এখন তার জীব-বৈচিত্র্য হারাচ্ছে। একটি গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে মানুষের সৃষ্ট বনায়ন ধ্বংস, অতিরিক্ত মৎস্য আহরণ, পশু পাখি নিধন এর জন্য ১০ লক্ষ প্রাণী ও গাছাপালার প্রজাতি বিলুপ্তির সংকটাপন্ন অবস্থায় রয়েছে। আরও অন্যান্য গুরুত্ব পূর্ণ ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে মানুষ সৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তন, পরিবেশ দূষণ ইত্যাদি।

বর্তমান সময়ের গন বিলুপ্তির হার অতীতের যে কোন সময়ের থেকে অধিকতর। যদি এই অবস্থা চলতে থাকে তবে পরবর্তী ৫০০ বছরের মধ্যে পৃথিবী একটা বড় গন বিলুপ্তির মুখে পড়বে বলে বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে দিয়েছে। এখন আমরা আমাদের চারিপাশে শুধুমাত্র কিছু নির্দিষ্ট প্রজাতির প্রাণী দেখি। যা পরিবেশে জীব বৈচিত্র্য স্বাভাবিক রাখতে পারবে না। কারণ প্রতিটি প্রাণী একে ওপরের উপর নির্ভরশীল। খাদ্য চক্র ভেঙ্গে পড়বে। স্বাভাবিক নিয়ম হল বড় প্রাণী ছোট প্রাণীকে খাদ্য হিসাবে গ্রহণ করে। এখন মানুষ অনেক বেশি প্রযুক্তির সহায়তায় গুটি কয়েক প্রাণীর উৎপাদন বৃদ্ধি করেছে যা নিকট ভবিষ্যতে প্রাণীকুলের জন্য হুমকি সরূপ।

জলবায়ু পরিবর্তন একটি দীর্ঘ মেয়াদী ঝুঁকি। অতীতের বৃহৎ আকারের আগ্নেয় গিরির উদ্গিরন যে ক্ষতি করছিল মানুষ জীবাশ্ম জালানি পুড়িয়ে অতিরিক্ত কার্বন ডাই অক্সাইড নির্গত করে সে কাজ ই করছে। মানুষ ২০১৮ সাল পর্যন্ত জীবাশ্ম জালানি পুড়িয়ে যে পরিমাণ কার্বন ডাই অক্সাইড নির্গত করেছে তা সাইবেরিয়াতে পার্মিয়ান – ট্রায়াসিক গন বিলুপ্তির সময়ের উদ্গিরিত কার্বন ডাই অক্সাইড এর ১৪০০ গুণ কম। তার পর ও পরিসংখ্যান বলছে মানুষ গ্রিন হাউস গ্যাস অধিক হারে নির্গত করছে যা পরিবেশের জন্য হুমকি সরূপ।

পরিশেষে, সুদূর ভবিষ্যতে মানুষ সৃষ্ট হোক আর প্রাকৃতিক কোন কারণেই হোক মানুষকে তার প্রজন্ম কে রক্ষার জন্য অবশ্যই অন্য কোন গ্রহে আবাস গড়া প্রয়োজন তার জন্য সব থেকে উপযুক্ত গ্রহ মঙ্গল-গ্রহ ছাড়া আর কি কিছু আছে?

সূত্র

Please follow and like us:

Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Next Post

শ্রী শ্রী লোকনাথ ব্রহ্মচারী বাবার শ্রীমুখ থেকে নিঃসৃত উপদেশসমূহ

Wed Nov 11 , 2020
শ্রী শ্রী লোকনাথ ব্রহ্মচারী বাবার শ্রীমুখ থেকে নিঃসৃত উপদেশসমূহ ব্রহ্মজ্ঞ বাবা লোকনাথ ব্রহ্মচারী বারদি গ্রামে প্রায় ছাব্বিশ -সাতাশ বছর লীলা করছেন। তাঁর জীবদ্দশায় তিনি ১৫০-১৫৫ বছর পর্যন্ত বেঁচে ছিলেন। তাঁর অপরূপ লীলার উদ্দেশ্যই ছিল সাধারণ মানুষকে দিব্য কর্মের আদর্শ দেখিয়ে দিব্য জীবনের অধিকারী করা।মানুষের মধ্যে ধর্ম কর্ম সত্য নিষ্ঠা ও […]