Colorgeo

Disaster Earth Science Career Tips Scholarships

সিঙ্কহোল Sinkhole কী? কেন হয় এবং প্রতিরোধের উপায়

Spread the love

সিঙ্কহোল Sinkhole কী? কেন হয় এবং প্রতিরোধের উপায়

 আজ ছুটির দিন, সবসময় এমন ব্যস্ত জনজীবনে আপনি অতিষ্ট। একটু প্রকৃতি দেখতে চান, একা সময় কাটাতে চান প্রকৃতির সাথে, যেই ভাবা সেই কাজ, আপনার বাসার অনতিদূরে কোনো এক বন দেখতে গেলেন। একা একা হাটছেন, ডানে বামে কখনো বা উপরে নিচে তাকিয়ে বনের ভিতরের রাস্তা দিয়ে, আর পাখির মিষ্টি সুর শুনে আপনার মনে হচ্ছে, প্রকৃতি এত সুন্দর হতে পারে আর এত নির্মল হতে পারে আপনি কখনো কল্পনাও করেন নি। বাসার কাছেই এমন মন মাতানো দৃশ্য – সুর থাকতে পারে আপনি বিশ্বাস করতে পারছিলেন না ,আপনি প্রকৃতির প্রেমে মগ্ন হয়ে কল্পনা করছিলেন প্রত্যেক ছুটির দিন কোনো বড় রেস্তোরায় বা আড্ডায় যাবার চেয়ে এই প্রকৃতিতে ছুটে আসবেন। কিন্তু ভাবনা বেশি সময় স্থায়ী হলো না আপনার, এমন মন মাতানো প্রকৃতি ভয়ঙ্কর রূপ নিল আপনার সামনেই। হঠাৎ করেই মাটি ধ্বসে বিশালাকার গর্তের রূপ নিল প্রকৃতির কিছু অংশ, আপনি পেছন ফিরে খুব জোরে ছুটতে লাগলেন। জানে বেঁচে গেলেন, বাসায় ফিরে ভাবছিলেন কখনো আর প্রকৃতি দেখতে যাবেন না।

পরদিন দুশ্চিন্তায় ভয়ানক স্বপ্নে ভোর বেলা ঘুম থেকে জেগে গেছেন, ভোরের চিত্র দিনের অন্যান্য সময়ের থেকে নির্মল ও আকর্ষণীয় হয় ,ব্যস্ত শহরটাকেও দেখতে নতুন লাগে একদম। আপনি দু্শ্চিন্তা কাটিয়ে মন হালকা করে শহর দেখছেন, কিন্তু গত কালের প্রকৃতির নির্মমতা আপনাকে ভাবাচ্ছে খুব, সংবাদ শিরোনামে দেখলেন ’সিঙ্কহোল  All Biggest sinkhole Photo’, – শহরের বড় এক শপিং মলের একাংশ মাটিতে হঠাৎ এক গর্ত হয়ে তাতে ঢুকে গেছে। আপনার চক্ষু ছানাবড়া, তাহলে কি শহরও মানুষের জন্য নিরাপদ না?

 এটাই সিঙ্কহোল Sinkhole, কোনোরকম পূর্বাভাস ছাড়া মাটি ডেবে গিয়ে ছোট বা বিশাল গর্তের সৃষ্টি হওয়া। মুহুর্তেই বিশাল স্থাপনা বা বিশালাকার বৃক্ষ অথবা পুরো একটি এলাকা সমান অঞ্চল হঠাৎ মাটির নিচে ডেবে যাওয়ার ঘটনাকে এক শব্দে ’সিঙ্কহোল’ বলে প্রকাশ করা যায়। সিঙ্কহোল হলো পৃথিবীর উপরিভাগে হঠাৎ সৃষ্টি হওয়া ছোট বা বিশালাকার গর্ত।পৃথিবীর উপরিভাগের পৃষ্ঠে হঠাত গভীর গর্ত হওয়ার ঘটনা নতুন নয়, প্রাচীন মায়ানরা বিশ্বাস করত এই গর্তগুলি আন্ডারওয়ার্ল্ডে যাবার পথ ।

 বর্তমানে এই সিঙ্কহোলের ঘটনাগুলি অনেক বেশি ঘটতে দেখা যাচ্ছে। সাধারণত বৃষ্টির পানি মাটির নিচে গিয়ে একটি স্তরে গিয়ে জমা হয়। যখন বিভিন্ন কারণে সেই পানি বেশি পরিমানে উত্তোলন করা হয়, তখন মাটির নিচে পানির স্তরটিতে ফাঁকা জায়গার তৈরি হয়। সেই স্থানের উপরিভাগের ওজন বেশি হলে তখনি ভূমিধ্বস হয়ে বিশালাকার গর্ত তৈরি হয়।


  এছাড়াও মাটির নিচে যেখানে চুনাপাথর, কার্বনেট শিলা, লবনের স্তর, পাথর, বালি বা এমন পদার্থ যা দ্রবীভূত হয়, সেখানে সিঙ্কহোল তৈরি হতে পারে। কারণ শিলা দ্রবীভূত হলে মাটির নিচে ফাঁকা জায়গা বেড়ে যায়, ক্রমে ক্রমে ফাঁকা স্থান বৃদ্ধির ফলে মাটির উপরিভাগের ভার অসহনীয় পর্যায়ে চলে গেলে সেখানে ভূমিধ্বস ঘটে। একেকটি সিঙ্কহোল আয়তনে কয়েক ফুট থেকে কয়েকশত ফুট পর্যন্ত হতে পারে, যা তৈরি হতে সময় লাগে কয়েক দশক থেকে শতাব্দী পর্যন্ত।

  সিঙ্কহোল Sinkhole সুধু স্থলভাগেই নয়, জলভাগেও দেখা যায় হঠাৎ করেই দানবীয়রূপে, দক্ষিণ চীন সাগরে অবস্থিত ’ড্রাগন হোল’ নামে খ্যাত পৃথিবীর সর্বোচ্চ গভীর সিল্কহোল যা ’ব্ল ু হোল’ নামেও পরিচিত। এসব সিঙ্কহোল জনজীবনে কোনো প্রভাব না ফেললেও মানবসৃষ্ট কারণে জনবসতিপূর্ণ এলাকায় তৈরি হওয়া সিল্কহোল মানুষকে বিশাল ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখিন করে। এমন  সিঙ্কহোল তৈরির পেছনে বিশেষ করে  মাটির নিচে বিভিন্ন ধরণের নির্মাণকাজ ও পানির লাইন এর জন্য দায়ী। মাটির নিচে থাকা বড় পানির লাইনগুলো কোনো কারণে লিকেজ বা ফুটো হলে সেখান থেকে পানি চুয়ে চুয়ে মাটির অভ্যন্তরে প্রবেশ করে মাটির নিচে জলধারা সৃষ্টি করে। এভাবে বছরের পর বছর চলতে থাকলে জলধারার পরিমান বেড়ে যায়, মাটির উপরিভাগের স্তরের ওজন অসহনীয় পর্যায়ে চলে গেলে সেখানে সিঙ্কহোল তৈরি হয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।

  এমন অবস্থা চলতে থাকলে পৃথিবীতে বড় বিপর্যয় নেমে আসবে, তাই যে কোনো মূল্যে সিঙ্কহোল যেন না হয় তার পদক্ষেপ গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি, পুরোপুরি বন্ধ না করা গেলেও জনবসতি স্থানের সিঙ্কহোল আমরা চাইলেই না হতে দিতে পারি। প্রকৃতির প্রতি আমাদের অবহেলা এবং নিজেদের সেচ্ছাচারিতার কারণে সিঙ্কহোল দিন দিন বেড়ে চলছে।  ভূগর্ভস্থ পানির মাত্রাতিরিক্ত উত্তোলন বন্ধ করলে আমরা অধিকাংশ সিঙ্কহোলের Sinkhole ঘটনা বন্ধ করতে সক্ষম হব কারণ এটিই সিঙ্কহোলের মূল কারণ। তাছাড়া অধিক হারে বৃক্ষ নিধন, পাশাপাশি অপরিকল্পিত নগরায়ন বন্ধ কতে হবে। এই ব্যপারে প্রত্যেককে সচেতন হতে হবে আর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে ব্যাক্তিগত থেকে রাষ্টীয় পর্যায়ে।